অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ,করনীয়, চিকিৎসা ও পরামর্শ :

হেলথ টিপস

অর্শ বা পাইলস রোগের কারণ,করনীয়, চিকিৎসা ও পরামর্শ

অর্শ ,পাইলস, পেস্টুলা, অরিশ বা গেজ যাই বলেন মলদ্বারের এই জটিল রোগ নিয়ে কষ্টে ভোগা মানুষের সংখ্যা আমাদের দেশে প্রচুর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সচেতনতা, সঠিক চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে কারো কারো ক্ষেত্রে তা ক্যান্সারের ক্ষতে রূপ নেয়। তাছাড়া সঠিক চিকিৎসার অভাবে এনিয়ে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয় রোগীকে। এল্যোপাথিকে অপারেশন করার পর সেটা স্থায়ী নির্মূল না হওয়াতে সেটা পূনরায় জটিল আকার ধারন করে কয়েকবছর পরেই। আমাদের দেশে সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবে প্রায় পরিবারেই এই জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়।

পাইলস কয় ধরনের?

পাইলস প্রধানত ২ ধরনের। বহি:স্থ পাইলস ও অভ্যন্তরীণ পাইলস।

বহি:স্থ পাইলস–

এটা মলদ্বারের মুখে ও বাইরে থাকে।এটি চামড়ার নিচে থাকে ও সাধারণত ব্যাথা হয়না। মলত্যাগের সময় চাপ দিলে বা বেশিক্ষণ ধরে মলত্যাগ করলে বাইরের পাইলসের মধ্যে রক্ত জমাট বেধে তা শক্ত হয়ে যেতে পারে ও তাতে ব্যাথা করেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটা ফেটে রক্ত বের হতে পারে। অনেকদিন এই পাইলস থাকলে মলদ্বারে চুলকানি ও মলদ্বার পরিস্কার করতে অসুবিধা হতে পারে।

অভ্যন্তরীণ পাইলস–

এটা মলদ্বারের ভিতরে থাকে। এই ধরনের পাইলসের প্রধান উপসর্গ হল মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত ও মলদ্বার বের হয়ে আসা। এই ধরনের পাইলসে ব্যাথা হয়না। যদি ভিতরের পাইলস মলদ্বার দিয়ে বাইরে চলে আসে এবং ভিতরে ঢুকানো সম্ভব না হয় তাহলে ব্যাথা হতে পারে।

বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়তে খাকুন-

নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ

১. যদি দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া থাকে।

২. শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া হলে।

৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলে।

৪. গর্ভাবস্থাতেও হতে পারে।

৫. লিভার সিরোসিস এর কারনেও।

৬. মল ত্যাগে বেশী চাপ দেওয়া পড়লে।

৭. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ

তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করালে।

৮. টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করা করলে।

৯. বৃদ্ধ বয়সেও।

১০. পরিবারে কারও পাইলস থাকা হতে পারে।

১১. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।

অর্শের লক্ষণসমূহ:

অর্শ বা পাইলস কিভাবে বুঝা যাবে এই নিয়ে অনেকে আবার চিন্তিত থাকে। চলুন তাহলে দেখে নেই কিভাবে অর্শ বা পাইলস হয়েছে বুঝতে পারবেন।

মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে:

১. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হলে।

২. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।

৩. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হলে।

৪. কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে:

* আরো একটা আর্টিকেল পড়ুন-

১. মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়।

২. কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

কি করব (অর্শ বা পাইলস রোগে করণীয়):

১. কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করার চেষ্টা করতে হবে।

২. পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া এবং পানি(প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করতে হবে।

৩. সহনীয় মাত্রার অধিক পরিশ্রম না করা।

৪. প্রতিদিন ৬-৮ ঘন্টা ঘুমানো।

৫. শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।

৬. টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করার চেষ্টা করতে হবে।

৭. সহজে হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে।

৮. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লেকজেটিভ বেশী গ্রহণ না করা।

৯. মল ত্যাগে বেশী চাপ না দেয়া।

১০. দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া আমাশয় থাকলে তার চিকিৎসা করাতে হবে।

অর্শ বা পাইলস রোগে গ্রহণীয় কিছু খাবার:

শাকসবজি, ফলমূল, সব ধরণের ডাল, সালাদ, দধি, পনির, গাজর, মিষ্টি কুমড়া, লেবু ও এ জাতীয় টক ফল, পাকা পেপে, বেল, আপেল, কমলা, খেজুর, ডিম, মাছ, মুরগীর মাংস, ভূসিযুক্ত (ঢেঁকি ছাঁটা) চাল ও আটা ইত্যাদি।

অর্শ বা পাইলস রোগে বর্জনীয় কিছু খাবার:

খোসাহীন শস্য, গরু, খাসি ফার্মের মুরগ ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার, মসৃণ চাল, কলে ছাঁটা আটা, ময়দা, চা, কফি, চীজ, মাখন, চকোলেট, আইসক্রীম, কোমল পানীয়, সব ধরণের ভাজা খাবার যেমনঃ পরোটা, লুচি, চিপস ইত্যাদি।

র‍্যাডিশ বা মূলার জুস:

মূলা আমাদের কাছে একটি অতিপরিচিত সবজি। এই সবজিটি অনেকে পছন্দ করে, আবার অনেকেই পছন্দ করে না। কিন্তু এই সবজিটি পাইলসের সমস্যায় অত্যন্ত উপকারি। এই সবজির রস খেলে পাইলসের সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যাবে। প্রথমে ১/৪ কাপ দিয়ে শুরু করুন। তারপর পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ১/২ কাপে নিয়ে আসুন।

* আরো একটা আর্টিকেল পড়ুন-

কলা:

কলা আমাদের সকলেরই পছন্দ। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সবচেয়ে উপকারি এবং অব্যর্থ ওষুধ হল কলা। বিনা কষ্টে মলত্যাগ করতে সাহায্য করে কলা। এর ফলে মলদ্বারে কোনও চাপ পড়ে না, ফলে পাইলসের সমস্যা বৃদ্ধি হয় না।

ডুমুর:

গ্রাম অঞ্চলে ডুমুর অনেক পরিচিত। শুকনো ডুমুর বা ফিগ ১ গ্লাস পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরের দিন সকালে এই অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। আবার বিকেলের দিকে বাকি অর্ধেক পানি খেয়ে নিন। পাইলসের সমস্যায় ভাল ফলাফল পাবেন।

বেদানা:

বেদানা খেতে আমাদের সকলেরই খুব পছন্দ। এই ফলটি পাইলসের সমস্যার জন্য অনেক উপকারি। প্রথমে বেদানার দানা পানিতে ভাল করে ফোটান। যতক্ষণ না বেদানার দানা ও পানির রং বদলায়ে না যায়, ততক্ষণ ক্রমাগত ফুটিয়ে যান। এই পানি ছেঁকে রেখে দিন। দিনে দুবার করে এই পানি পান করুন। নিশ্চয় উপকার পাবেন।

আদা ও লেবুর রস:

আদা ও লেবুর রস আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করে। আর আদা ও লেবুর রস পাইলসের সমস্যায় খুব ভাল কাজ করে থাকে। ডিহাইড্রেশনও পাইলসের অন্যতম কারণ। আদা ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে তাতে ১ চামচ মধু ভাল করে মিশিয়ে নিন। দিনে দুবার করে এই মিশ্রণটি খান। এতে শরীরে হাইড্রেট হবে এবং পাইলসের সমস্যাও কমবে।

প্রাতঃকর্মের সময় বসার ধরণ:

অনেক সময় ভুল পদ্ধতিতে কমোডে বসার ফলে অতিরিক্ত চাপের প্রয়োজন হয়। পায়ের নিচে একটা ছোট টুল রাখুন। কমোডে বসার সময় একটু সামনের দিকে ঝুঁকে বসুন। এতে বৃহদন্ত্রের কম চাপ পড়বে। এতে করে পাইলসের সমস্যা কম হতে পারে।

চিকিৎসা:

পাইলসের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত এল্যপাথিক স্থায়ী ঔষধ তেমন আবিস্কৃত হয় নি। তবে অপারেশন করা হয়। কিন্তু পাইলসের অপারেশন সেনসেটব জায়গায় হওয়ায় তা কখনো ক্যান্সারে রুপ নেয় আাবার পুনরায় তৈরি হয়। তবে হাজার বছর ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় পাইলস এর চিকিৎসা পরিক্ষিত।

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর হেলথ টিপস পেতে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

আমাদের আজকের হেলথ টিপস কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন।পাইলস রোগের কারণ -চিকিৎসা. পাইলস রোগের কারণ -চিকিৎসা. পাইলস রোগের কারণ -চিকিৎসা

আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *