কোন সময়ে কোন দুআ পড়া উচিত

ইসলামিক কর্ণার

দু‘আ বেশি বেশি পড়লে বেশ ভালো লাগবে

বিপদ থেকে উদ্ধারে দু‘আ ইউনুসের আমল পরীক্ষিত। আসুন, এই দু‘আটির বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য জানি, তাহলে প্রচণ্ড বিশ্বাসের সাথে এর উপর আমল করা যাবে, ইনশাআল্লাহ।

.

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যুন্নুন (ইউনুস আ.) মাছের পেটে দু‘আ করেছিলেন—

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ سُبْحٰنَكَ اِنِّيْ كُنْتُ مِنَ الظّالِمِيْنَ

.

[লা ইলা-হা ইল্লা আনতা সুব‘হা-নাকা ইন্নি কুনতু মিনায যলিমি-ন]

.

অর্থ: আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই; আপনি পুতঃপবিত্র, নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।

.

কোনো মুসলিম যে বিষয়েই এভাবে (আল্লাহকে) ডেকেছে, তিনি তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫০৫; হাদিসটির সনদ সহিহ]

.

দু‘আটি শব্দে শব্দে অর্থসহ শিখুন—

.

لَا লা (নেই)

اِلٰهَ ইলা-হা (কোনো সত্য উপাস্য)

اِلَّا ইল্লা (ব্যতীত)

اَنْتَ আনতা (আপনি)

سُبْحٰنَكَ সুব‘হা-নাকা (আপনি পবিত্র)

اِنِّيْ ইন্নি (নিশ্চয়ই আমি)

كُنْتُ কুনতু (ছিলাম)

مِنَ মিন (হতে)

الظّالِمِيْنَ যলিমি-ন (জালিমদের)

.

◈ আল্লাহর একত্ববাদের দিকে ইউনুস (আ.)-এর দা’ওয়াত তাঁর অবাধ্য সম্প্রদায় গ্রহণ করেনি। তিনি বহু প্রচেষ্টা চালান। এমনকি এক পর্যায়ে তাদেরকে আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখান। তারা তখনও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে। তাই, তিনি একপর্যায়ে রাগান্বিত ও বিরক্ত হয়ে তাদের ছেড়ে চলে যান। কারণ তারা হঠকারিতা দেখিয়ে আল্লাহর আজাবের অপেক্ষায় ছিলো। ইউনুস (আ.) এক্ষেত্রে একটু তাড়াহুড়ো করে ফেলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ আসার অপেক্ষা না করেই তাদের ছেড়ে চলে যান। ফলে, আল্লাহ্ অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর উপর কঠিন এক মুসিবত চাপিয়ে দেন। সমুদ্র পারি দেওয়ার সময় বিশাল এক মাছ তাঁকে গিলে ফেলে! কল্পনা করে দেখুন! একজন মানুষের জীবনে এরচেয়ে বড় মুসিবত আর কী হতে পারে? ইউনুস (আ.) হতাশ হননি। নিজের ভুল বুঝতে পেরে নিঃশর্তভাবে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে উপরে বর্ণিত দু‘আটি করেন এবং আল্লাহ তাঁকে এই মহামুসিবত থেকে নাজাত দান করেন।

.

◈ যে দু‘আর মধ্যে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা থাকে এবং যে দু‘আর মধ্যে নিজের অপরাধের স্বীকারোক্তি প্রদান করা হয়, সেটি কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এই দু‘আর মধ্যে দুটোই আছে। পাশাপাশি এটাতে আছে আল্লাহর মহানত্বের স্বীকৃতি।

.

* আরো পড়ুন-

◈ ইসমে আযম: হাফিয ইবনু হাজার (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর বিশ্ববিখ্যাত সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারি’-তে ইসমে আযমের শব্দ ও বাক্যগুলো তুলে ধরেছেন। তার মধ্যে একটি হলো, দু‘আ ইউনুস। আল্লাহর গুণবাচক দুটো নাম ‘আল হাইয়ুল কাইয়ুম’ ইসমে আযমের অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ হাদিস আছে। আর, দু‘আ ইউনুসে এ দুটো নামই আছে।

.

◈ দু‘আ মানেই ‘আল্লাহ্ আমাকে এই দাও সেই দাও’ এমনই হতে হবে, সেটি জরুরি নয়। অনেক সময় স্রেফ নিজের ভুলটা মন থেকে স্বীকার করাই যথেষ্ট হয়। বিভিন্ন নবির ঘটনাতে এমন অনেক উদাহরণ আছে। দু‘আ ইউনুসেও আমরা তাই দেখলাম।

.

দুঃখ-কষ্টের সময় পড়ার জন্য নবিজি আলি (রা.)-কে একটি দু‘আ শিখিয়েছিলেন। আজ আমরা সেটি আলোচনা করবো।

.

আলি (রা.) বলেন, আমার উপর কোনো কষ্ট-মুসিবত আপতিত হলে, সেসময় পড়ার জন্য নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিখিয়েছেন, যেন আমি বলি—

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ الْحَلِيْمُ الْكَرِيْمُ، سُبْحَانَ اللّٰهِ، وَتَبَارَكَ اللّٰهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

.

(লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘হালি-মুল কারি-ম, সুব‘হা-নাল্লাহ, ওয়া তাবা-রাকাল্লা-হু রব্বুল ‘আরশিল আযি-ম, ওয়াল ‘হামদুলিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামি-ন)

.

অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই, তিনি সহনশীল, দয়ালু। আল্লাহ পুতঃপবিত্র; আল্লাহ মহিমান্বিত; মহান আরশের রব (অধিপতি)। আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি জগৎসমূহের রব (প্রতিপালক)। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৭০১; ইমাম হাকিম, আল-মুসতাদরাক: ১৯১৬; হাদিসটি সহিহ]

.

.

.

দু‘আটি সহজভাবে শিখে নিই—

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ

(আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই)

.

الْحَلِيْمُ الْكَرِيْمُ আল ‘হালি-মুল কারি-ম

(তিনি সহনশীল, দয়ালু)

.

سُبْحَانَ اللّٰهِ সুব‘হা-নাল্লাহ

(আল্লাহ পুতঃপবিত্র)

.

وَتَبَارَكَ اللّٰهُ ওয়া তাবা-রাকাল্লা-হ

(আল্লাহ মহিমান্বিত)

.

رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ রব্বুল ‘আরশিল ‘আযি-ম

(মহান আরশের রব)

.

وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ

ওয়াল ‘হামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামি-ন

(আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, যিনি জগৎসমূহের রব)

.

দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তাকে আনন্দ দ্বারা পরিবর্তন করতে নবিজি আমাদের একটি দু‘আ শিখতে তাগিদ দিয়ে গেছেন। আজ আমরা সেটি অর্থ ও উচ্চারণসহ জানাবো ইনশাআল্লাহ।

.

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘যখন কোনো বান্দা দুঃখ-কষ্ট ও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে এবং এটি বলবে, আল্লাহ তার দুঃখ দূর করে দেবেন এবং দুশ্চিন্তাকে আনন্দ দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন।’’ সাহাবিগণ বলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমাদের কি এই বাক্যগুলো শেখা উচিত নয়?’ নবিজি বলেন, ‘‘অবশ্যই, যে এগুলোর কথা শুনবে, তারই উচিত এগুলো শিখে নেওয়া।’’

.

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ عَبْدُكَ আল্লা-হুম্মা ইন্নি ‘আবদুক

[হে আল্লাহ! আমি আপনারই বান্দা/দাস]

.

اِبْنُ عَبْدِكَ ইবনু আবদিক

[আপনারই এক বান্দার/দাসের ছেলে]

.

اِبْنُ اَمَتِكَ ইবনু আমাতিক

[আপনারই এক বান্দীর/দাসীর ছেলে]

.

আরো পড়ুন- গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ

____________________________________

(এটি যখন কোনো নারী পড়বেন, তখন সামান্য একটু পরিবর্তন করে পাঠ করবেন)

.

[তবে, পুরুষ-নারী একইভাবে পড়লেও সমস্যা নেই। কিন্তু উত্তম হলো, এভাবে পড়া]

.

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَمَتُكَ আল্লা-হুম্মা ইন্নি আমাতুক

[হে আল্লাহ! আমি আপনারই এক বান্দী/দাসী]

.

بِنْتُ عَبْدِكَ বিনতু ‘আবদিক

[আপনারই এক বান্দার/দাসের মেয়ে]

.

بِنْتُ اَمَتِكَ বিনতু আমাতিক

[আপনারই এক বান্দীর/দাসীর মেয়ে]

____________________________________

(বাকি অংশ সবাই হুবহু একই পড়বেন)

.

نَاصِيَتِيْ بِيَدِكَ না-সিয়াতি বিয়াদিক

[আমার কপাল (নিয়ন্ত্রণ) আপনারই হাতে]

.

مَاضٍ فِيَّ حُكْمُكَ মা-দ্বিন ফিয়্যা হুকমুক

[আমার উপর আপনার নির্দেশই কার্যকর]

.

عَدْلٌ فِيَّ قَضَائُكَ আদলুন ফিয়্যা ক্বাদ্বা-উক

[আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা-সিদ্ধান্তই আদল (সুবিচারপূর্ণ)]

.

اَسْاَلُكَ بِكُلِّ اِسْمٍ هُوَ لَكَ

.

আসআলুকা বিকুল্লি ইসমিন হুওয়া লাক

[আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি—আপনার প্রতিটি নামের উসিলায়]

.

سَمَّيْتَ بِهٖ نَفْسَكَ সাম্মাইতা বিহি নাফসাক

[যে নাম আপনি নিজের জন্য রেখেছেন]

.

اَوْ اَنْزَلْتَهُ فِيْ كِتَابِكَ

.

আউ আনযালতাহু ফি কিতাবিক

[অথবা (যে বিশেষ নাম) আপনি আপনার কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন]

.

اَوْ عَلَّمْتَهُ اَحَدًا مِّنْ خَلْقِكَ

.

আউ ‘আল্লামতাহু আ‘হাদাম মিন খালক্বিক

[কিংবা (যে বিশেষ নাম) আপনি আপনার সৃষ্টজীবের কাউকে শিখিয়েছেন]

.

اَوْ اسْتَاْثَرْتَ بِهٖ فِيْ عِلْمِ الْغَيْبِ عِنْدَكَ

.

আউইসতাঅ্সারতা বিহি ফি ‘ইলমিল গাইবি ‘ইনদাক

[অথবা (যে নাম) আপনি নিজের অদৃশ্য-জ্ঞানে নিজের জন্য সংরক্ষণ করে রেখেছেন (সেই নামের উসিলায় আমি প্রার্থনা করছি)]

.

اَنْ تَجْعَلَ الْقُرْآنَ

.

আন তাজ‘আলাল কুরআ-ন

[আপনি কুরআনকে বানিয়ে দিন]

.

رَبِيْعَ قَلْبِيْ রবি-‘আ ক্বালবি

[আমার হৃদয়ের বসন্ত (প্রশান্তি)]

.

وَنُوْرَ صَدْرِيْ ওয়া নু-রা সদরি

[আমার বক্ষের (হৃদয়ের) জ্যোতি]

.

وَجَلَاءَ حُزْنِيْ ওয়া জালা-আ ‘হুযনি

[আমার দুঃখ অপসারণকারী]

.

وَذَهَابَ هَمِّيْ ওয়া যাহা-বা হাম্মি

[এবং আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী]

.

[ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৩৭১২; শায়খ আলবানি, সহিহুত তারগিব: ১৮২২; হাদিসটি সহিহ]

.

.

আমরা দুঃখ-কষ্ট ও বালা-মুসিবতের সময় এই গুরুত্বপূর্ণ দু‘আটি বেশি বেশি পড়বো। কারণ স্বয়ং নবিজি বলে গেছেন, যে ব্যক্তিই এই দু‘আটির কথা জানবে, তারই উচিত এটি শিখে নেওয়া। অতএব, আমরা নামাজের সিজদায়, সালাম ফেরানোর আগে কিংবা যেকোনো সময় এটি পড়বো, ইনশাআল্লাহ।

.

.

* আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

আল্লাহ আমাদের সবার দোয়া কবুল করুক। এবং পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে মাফ করুক; আমিন

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।কোন দুআ পড়া উচিত, কোন দুআ পড়া উচিত, কোন দুআ পড়া উচিত, কোন দুআ পড়া উচিত

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

আল্লাহ হাফেজ ..

2 thoughts on “কোন সময়ে কোন দুআ পড়া উচিত

  1. This service is perfect for boosting your local business’ visibility on the map in a specific location.

    We provide Google Maps listing management, optimization, and promotion services that cover everything needed to rank in the Google 3-Pack.

    More info:
    https://www.speed-seo.net/ranking-in-the-maps-means-sales/

    Thanks and Regards
    Mike Enderson

    PS: Want a ONE-TIME comprehensive local plan that covers everything?
    https://www.speed-seo.net/product/local-seo-bundle/

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *