খাগড়াছড়ি ভ্রমণ 2024

ভ্রমণ

এসো বাংলাদেশকে জানি, এসো মাতৃভূমিকে ভালোবাসি

আজ বলবো খাগড়াছড়ির গল্প :

সুখ কিনতে পারবেন না এটা যেমন সত্য, তেমন সত্য আপনি ভ্রমণ করলে মানসিক ভাবে সুখী হবেন। আর সেটা যদি হয় প্রকৃতির একেবারে কাছাকাছি তাহলে তো কথাই নেই।

.

পাহাড় এমন একটা সৃষ্টি, যেখানে আপনাকে প্রতিটি সেকেন্ড মনে করিয়ে দিবে আপনি জীবিত।

.

❝ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের ওপরে একটি শিশির বিন্দু ❞

মিষ্টি পানির প্রবহমান (ছড়া) পাহাড়ি ঝর্ণা। খাগড়াছড়ি অঞ্চলে ঢোকার সাথে সাথে দেখা মিলবে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ির আদলে উঁচু নিচু অনেক পাহাড়। প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ। একজন ভ্রমণ পিপাসুর মনকে প্রফুল্লচিত্ত করে তুলবে।

.

আপনারা সাজেক না গিয়ে শুধু খাগড়াছড়ির ভ্রমণ করতে চাইলে, শাপলা চত্বর থেকে সিএনজি, বাইক অথবা চান্দের গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। শুধু খাগড়াছড়ি ভ্রমনে সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া লাগবে ১৫০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত (৪ জন করে), বাইকে লাগবে ১০০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত (২ জন করে) আর চান্দের গাড়িতে লাগবে ২০০০-৩০০০ টাকা পর্যন্ত (১০-১৫ জন করে)।

আগে থেকে ঠিক করে নিতে হবে কোন কোন স্থান ঘুরবেন। এতে করে ভাড়া কম-বেশি হয়ে থাকে। দেশের যেখান থেকেই রওনা দেন কেনো, যেন সকাল সকাল খাগড়াছড়িতে পৌঁছানো যায়।

আলিটিলা পর্যটন কেন্দ্র :

পর্যটকদের জন্য খাগড়াছড়িতে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি স্থান হল “আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র”। সৌন্দর্যের ঐশ্বর্যময় অহঙ্কার খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথ আলুটিলা। পাথুরে প্রাকৃতিক সুরঙ্গখ্যাত আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র। সেখানে নির্মাণ করা হয়েছে নান্দনিক কুঞ্জছায়া। প্রবেশমুখেও নির্মিত আছে স্বর্ণ তোরণ। আলুটিলা পাহাড়ের চূড়া থেকে দেখা মেলে নয়নাভিরাম চেঙ্গী নদীর তীরে অবস্থিত খাগড়াছড়ি শহর আর দূরের সবুজ পাহাড়, যা সবারই নজর কারে।

.

এখানে প্রবেশের আগে মূল গেটের কাছে থেকে জন প্রতি ২০ টাকা করে টিকেট সংগ্রহ করে নিতে হয়।

.

একসময় আলুটিলার একমাত্র আকর্ষণ ছিল একটি প্রাকৃতিক রহস্যেঘেরা আলুটিলা গুহা যা স্থানীয়দের কাছে ‘মাতাই হাকড়’ বা ‘দেবতার গুহা’ নামে পরিচিত। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রায় ২৬৬ টি সিঁড়ি নিচে নেমে আলুটিলা গুহা।

.

পাহাড়ের পাদদেশে পাথর আর শিলা মাটির ভাঁজে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা এ রহস্যময় সুড়ঙ্গের অবস্থান। গুহার ভেতরে প্রায় সব সময়ই অন্ধকার থাকে। আর এজন্যই গুহায় প্রবেশ করতে হলে মশাল কিংবা চার্জার লাইটের প্রয়োজন হয়। তবে মোবাইল টর্চের আলোয় তা অতিক্রম করা যায়।

.

তাছাড়া গুহার অভ্যন্তরের পাথর গুলো অনেকটাই পিচ্ছিল হওয়ায় সাবধানে চলাচল করতে হয়। এই গুহার এক প্রান্ত দিয়ে ঢুকে অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হতে প্রায় ১২ থেকে ১৫ মিনিটের মত সময় লাগে, যা রহস্যময় একটা অনুভূতি সৃষ্টি করে। গুহা থেকে বের হয়ে আবারও কিছুটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়।

.

* আরো একটা আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

.

ঝুলন্ত ব্রীজ এবং পার্ক :

আলুটিলা গুহা দেখে বের হয়েই ঝুলন্ত ব্রিজের মাধ্যমে এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে পারবেন। আবার আছে লাভ ব্রিজ সহ অন্যান্য নৈসর্গিক শোভা।

.

আর একটু ডান দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলেই দুই গজ দূরে নতুনভাবে তৈরি করা হয়েছে মূল ভিউ পয়েন্ট কুঞ্জছায়া, আড্ডাস্থান নন্দনকানন। পুরো পার্ক জুড়েই রয়েছ অপরূপ সৌন্দর্য। তাই কিছু ছবিও ফ্রেমবন্দী করে নিতে পারবেন। আর উপভোগ করতে পারবেন এই ইকোপার্কটি।

.

এ টিলার চূড়ায় দাঁড়ালে শহরের ছোট-বড় ভবন, গাছ-গাছালি, সবুজ পাহাড়, চেঙ্গী নদীর স্রোতধারা, মেঘ-পাহাড়ের খেলা ও সুবিশাল আকাশ মনকে অপার্থিব মুগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। প্রাকৃতিক নৈসর্গের এ স্থানটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে এই ইকোপার্কটি।

এই রহস্যময় গুহা দেখতে আসা পর্যটকরা শান্ত স্থির পাহাড়ের রূপও উপভোগ করতে পারে।

.

রিসাং ঝর্ণা :

আলুটিলার কাছেই অবস্থিত রিসাং ঝর্ণা, যা এক কথায় অসাধারণ অনুভূতির সৃষ্টি করে। যার অন্য নাম ‘তেরাং তৈকালাই’। প্রায় ৩০০ সিঁড়ি পারি দিয়ে যেতে হয় সেথায়। আলুটিলা থেকে সেই এলাকায় যেতে লোকাল বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৫-১০ টাকা। ওই এলাকা থেকে দুই কিলোমিটার পায়ে হেটে বা বাইকে রিসাং ঝর্ণায় যেতে হয়। শুধুমাত্র যাওয়ার জন্য জনপ্রতি বাইকের ভাড়া ৫০ টাকা করে, আর ফিরে আসার ভাড়া জনপ্রতি ১০০ টাকা করে। তবে আপনারা হেঁটেও যেতে পারবেন।

.

পাহাড়ের বুক বেয়ে প্রায় ১০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ছে ঝর্ণার জলরাশি। ঝর্ণাটির বিশেষ এ বৈশিষ্ট্যের কারণেই অনেকে ঢালু এই পথে প্রাকৃতিক ‘ওয়াটার স্লাইডিং’ করে থাকেন। এছাড়া রিছাং ঝর্ণার নিচে যেখান থেকে ঝর্ণার পানি সমতলের গড়াতে শুরু করেছে সেখানে চাইলে গোসল করার বাড়তি সুবিধাটাও নিতে পারেন।

.

রিসাং ঝর্ণা নিয়ে একটু সতর্কতা :

ভ্রমণপিয়াসী মানুষের জন্য অন্যতম একটা সুন্দর যায়গা। তবে দয়া করে কেউ অতি আবেগ নিয়ে ঝর্ণায় নেমে স্লিপিং করবেন না। আপনারা ঘুরতে যাবেন আনন্দ নিয়ে, আবার আনন্দ নিয়েই যেন ফিরে আসতে পারেন সেই জন্য সর্বোচ্চ সাবধান থাকবেন। প্রতিদিনই দুর্ঘটনায় পরছে পর্যটক। স্লিপিং করতে গিয়ে মারা গেছে এমন রেকর্ড যেমন আছে, তেমনি মাথায় ১৩ টা পর্যন্ত সেলাই লেগেছে এমন ঘটনাও আছে। আর হাত পা,মাথা পিঠ কাটার ঘটনা তো অহরহ । যাইহোক আপনার আনন্দভ্রমণ যেন শেষ পর্যন্ত আনন্দেই কাটে সেই দোয়া।

আপনার_সাবধানতা_আপনার_কাছেই।

.

আলুটিলা পর্যটন পার্ক সম্পর্কে কিছু কথা :

অবস্থান :

খাগড়াছড়ি শহর থেকে ৮কিঃ মিঃ পশ্চিমে আলুটিলা পাহাড় চূড়ায় আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র, যেখানে বৃষ্টির সময় মেঘ এসে ছুঁয়ে যায় পর্যটকদের।

যাতায়াত :

সাজেক রাঙামাটির সার্বোউত্তরে অবস্থিত হলেও এর যাতায়াত সুবিধা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ভয়ংকর সৌন্দর্যে ঘেরা আঁকাবাকা পথে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যেতে সময় লাগে ৬-৮ ঘন্টার মত। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ২৭২.৬ কিলোমিটার বা কিছু কম-বেশি হতে পারে।

.

* আরো একটা আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

.

এখানে এসি এবং নসএসি দুই ধরনের বাস সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এসি বাসে ভাড়া সর্বনিম্ন ৯০০ থেকে ১৬০০ টাকা

এবং ননএসি বাসে ভাড়া ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বা তার কিছু কম-বেশিও হতে পারে। ঢাকা-খাগড়াছড়ি পথে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলস, সেন্টমার্টিন রবি পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস, শান্তি পরিবহন, ইকোনো সার্ভিস

বাস, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া সহ আরও অনেক বাস সুবিধা রয়েছে। মাঝে ৩০ মিনিটের মত হোটেল ব্রেক দেওয়া হয়।

.

এছাড়াও ট্রেন ও বিমানযোগেও ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়। তবে সরাসরি খাগড়ছড়ি যাওয়া যায় না। ট্রেনে ও

বিমানযোগে খাগড়াছড়ি ভ্রমণ করতে চাইলে চট্টগ্রামে পর্যন্ত ট্রেনে বা বিমানযোগে আসতে হবে, তারপর বাসে করে খাগড়াছড়ি যেতে হবে।

.

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রটি খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে অবস্থিত হওয়ায় পাহাড়ের উঁচু-নিচু ঢালু রাস্তা

দিয়ে চাঁন্দের গাড়ি, বাস, সিএনজি অথবা ট্যাক্সিযোগে যাতায়াত করা যায়।

.

আলুটিলা বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন স্পট। আর তাই এর সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে খাগড়াছড়ির সাবেক জেলা প্রশাসক কবিতায় বলেছিলেন-

‘‘ক্লান্ত পথিক ক্ষণেক বসিও আলুটিলার বটমূলে, নয়ন ভরিয়া দেখিও মোরে চেঙ্গী নদীর কোলে।’’

এই লেখাটা আলুটিলার প্রবেশদ্বারেই লেখা আছে।

রাত্রি যাপন :

খাগড়াছড়ি শহরে রাত্রি যাপনের জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। হোটেল ভেদে এক রাত অবস্থানের জন্য

আপনাকে ৫০০-৫০০০ টাকা প্রদান করতে হবে। রাত্রি যাপন না করলে কিছু সময় বিশ্রামের জন্যও ভাড়া নিতে পারেন।

অপরুপ সৌন্দর্যের স্থান খাগড়াছড়িতে একবার হলেই ঘুরে আসতেই হবে। বাংলাদেশের প্রকৃতির ন্যায় এমন প্রাকৃতিক

সৌন্দর্য আর তার সাথে শহরের কোলাহল আর কোথাও দেখা যায় কিনা তা জানা নেই। প্রকৃতিই বাংলাদেশকে আলাদা ভাবে উপস্থাপন করেছে পৃথিবীর কাছে। প্রতি বছরই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন ঘটে এখানে। বাংলাদেশের

ছয়টি ঋতুতে ছয়টি রূপে সাজে এই খাগড়াছড়ি শহর। পাহাড় ছোঁয়া মেঘ-কুয়াশা দেখলে মন জুড়িয়ে যায় এক নিমিষেই।

ভ্রমনের জন্য বহনকৃত প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি : যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের জন্য যেসব জিনিস একান্ত প্রয়োজনীয়, তা নিম্নে দেওয়া হলো:

মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার।

রবি, টেলিটক, এয়ারটেল সিম অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে। ( জানা মতে সাজেক ভ্যালিতে অন্য কোন সিমের নেটওয়ার্ক ভালো পাওয়া যায় না)।

ফোনের চার্জার সাথে পাওয়ার ব্যাংক (যদিও মাল্টিপ্লাগ থাকে তবুও হাতের সম্বল নিলে ভালো)।

একান্ত ব্যক্তিগত ব্যবহার্য দ্রব্যাদি।

মশার কামড় থেকে বাঁচার জন্য মশানাশক ক্রিম।

টর্চ লাইট।

গ্লুকোজ/সেলাইন সহ অন্যান্য ব্যবহার্য ঔষধ এবং অবশ্যই পানির বোতল।

ছাতা, গামছা, ক্যাপ/ হ্যাট।

সানগ্লাস, সানস ক্রিন (ত্বক সচেতনতা)।

টুথপেস্ট-ব্রাশ, হ্যন্ডওয়াশ, টিস্যু পেপার।

ম্যাপ ও কম্পাস

ইত্যাদি।

আপনারা এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে শেষ করতে পারবেন খাগড়াছড়ি ভ্রমণ।

বিঃদ্রঃ

ভ্রমণস্পটে প্লাস্টিক -পলিথিন তথা অপচনশীল দ্রব্য ফেলানো থেকে বিরত থাকুন।

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে , ভালো লাগা. খারাপ লাগা সবকিছু কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে

জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।খাগড়াছড়ি ভ্রমণ. খাগড়াছড়ি ভ্রমণ. খাগড়াছড়ি ভ্রমণ. খাগড়াছড়ি ভ্রমণ. খাগড়াছড়ি ভ্রমণ. খাগড়াছড়ি ভ্রমণ.

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *