গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ

ইসলামিক কর্ণার

নিঃসন্দেহে এই দোয়া সমূহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাকদিরের কিছু অংশ অপরিবর্তনীয় আর কিছু আছে পরিবর্তনশীল। তাই, এই দু‘আটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা সৌভাগ্যবান হতে পারি। কারণ দু‘আ ভাগ্যের কিছু বিষয় পরিবর্তন করতে পারে আর স্বয়ং নবিজি এভাবে দু‘আ করেছেন।

.

সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘দুআ ব্যতীত অন্য কোনো কিছুই ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে না এবং সৎকাজ ব্যতীত অন্য কোন কিছুই হায়াত বাড়াতে পারে না।’’ [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ২১৩৯; হাদিসটি সহিহ]

.

বড় কোনো বিপদ অথবা কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়লে অনবরত আল্লাহর দুটো গুণবাচক নাম জপতে থাকুন; বদর যুদ্ধের কঠিন দিনে নবিজি এমনটি করেছিলেন। এমনকি এগুলো মহান আল্লাহর ইসমে আযমের অন্তর্ভুক্ত।

.

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনে যে ক’টি দিনে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ এবং ভয়াবহ বিপদের সন্মুখীন হয়েছিলেন, তার মধ্যে বদর যুদ্ধের দিনটি অন্যতম। হাদিসে এসেছে—সেদিন তিনি অত্যন্ত বিনয় আর কাতরকণ্ঠে আল্লাহকে ডাকছিলেন আর দু‘আ করছিলেন—

.

‘‘হে আল্লাহ!…যদি এই ক্ষুদ্র দলটি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে আজকের দিনের পর থেকে জমিনে আর কখনো তোমার ইবাদত করা হবে না।’’ এমনভাবে তিনি দু‘আ করছিলেন যে, তাঁর কাঁধ হতে চাদর পড়ে গিয়েছিলো। এ দৃশ্য দেখে আবু বকর (রা.) ছুটে এসে চাদর তুলে দিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘যথেষ্ট হয়েছে হে আল্লাহর রাসুল! আপনার রবের নিকট আপনি চূড়ান্ত প্রার্থনাই করেছেন।’ [ইমাম মুসলিম, আস-সহিহ: ৪৪৮০]

.

সেই কঠিন মুহূর্তে নবিজি আর কী করছিলেন?

.

আলি ইবনু আবি তালিব (রা.) বলেন, ‘বদরের যুদ্ধের দিনে আমি কিছুক্ষণ যুদ্ধ করে এসে দেখি—নবিজি সিজদারত অবস্থায় আছেন আর শুধু বলছেন—

.

(ইয়া ‘হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম) — يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ

[অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী]

.

এর বেশি কিছুই বলছেন না।’ এরপর আলি (রা.) আবার যুদ্ধ করতে চলে যান। আবার ফিরে আসেন; এসে দেখেন—নবিজি একই অবস্থায় আছেন। এভাবে কয়েকবার এসে তিনি একই অবস্থায় পেয়েছেন। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিজয় দান করেন। [ইমাম হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ: ১০/১৪৭; ইমাম হাইসামি (রাহ.) বলেন, হাদিসটির সনদ হাসান]

.

যখন পৃথিবীটা সংকীর্ণ মনে হবে, চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে যাবে, তখন খুব বেশি করে ‘ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম’ পড়া উচিত। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অন্যতম সংকটময় মুহূর্তে এটি পড়েছিলেন, আল্লাহ্ সফলতা দিয়েছিলেন।

.

এছাড়া আমাদের যেকোনো দু‘আর মধ্যে কিছু সময় পরপর এই বাক্য দুটো বারবার বলার অভ্যাস করা উচিত। কারণ, এগুলো ইসমে আযমের অন্তর্ভূক্ত। [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ১৪৯৬; হাদিসটি হাসান]

.

* আরো পড়ুন-

হাফিয ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, ‘দুআ কবুল এবং দুঃখ-কষ্ট থেকে মুক্তির ক্ষেত্রে আল্লাহর ‘‘আল-হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম’’ নামের এক বিশেষ প্রভাব রয়েছে।’ [যাদুল মা‘আদ: ৪/১৮৮]

.

নবিজির খাদেম বিশিষ্ট সাহাবি আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো বিষয় কষ্টকর (দুঃসহ) মনে হলে তিনি বলতেন—

.

يَا حَيُّ يَا قَيُّوْمُ بِرَحْمَتِكَ أَسْتَغِيْثُ

.

ইয়া ‘হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম বিরাহমাতিকা আস্তাগিস

.

অর্থ: হে চিরঞ্জীব! হে চিরস্থায়ী! আমি আপনার রহমতের উসিলায় সাহায্য প্রার্থনা করছি। [ইমাম তিরমিযি, আস-সুনান: ৩৫২৪; হাদিসটি হাসান]

.

বিপদের সময় নবিজি যে দু‘আটি পড়তেন, আমরা সেটির অর্থ ও উচ্চারণসহ আপনাদের কাছে তুলে ধরবো, ইনশাআল্লাহ।

.

নবিজির চাচাতো ভাই এবং তাঁর অন্যতম খাদেম, সাহাবিগণের মাঝে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিম আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিপদের সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আ পড়তেন—

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ الْعَظِيْمُ الْحَلِيْمُ، لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ، لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ رَبُّ السَّمٰوَاتِ، وَرَبُّ الْأَرْضِ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيْمِ

.

(লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হুল ‘আযি-মুল ‘হালি-ম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুল ‘আরশিল ‘আযি-ম, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু রব্বুস সামা-ওয়া-তি ওয়া রব্বুল আরদ্বি, ওয়া রব্বুল ‘আরশিল কারি-ম)

.

অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই; তিনি মহান, অত্যন্ত সহনশীল। আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই; তিনি মহান আরশের রব। আল্লাহ ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই; তিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব এবং সম্মানিত আরশের রব। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৪৬]

.

.

দু‘আটির শব্দার্থগুলো শিখে নিতে পারি—

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)

(আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)

.

الْعَظِيْمُ الْحَلِيْمُ (আল আযি-মুল ‘হালি-ম)

(মহান, অতি সহনশীল-ধৈর্যশীল)

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)

(আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)

.

رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيْمِ (রব্বুল ‘আরশিল আযি-ম)

(মহান আরশের রব)

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ (লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহ)

(আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই)

.

رَبُّ السَّمٰوَاتِ (রব্বুস সামা-ওয়া-তি)

(আসমানসমূহের রব)

.

وَرَبُّ الْأَرْضِ (ওয়া রব্বুল আরদ্বি)

(জমিনের রব)

.

وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيْمِ (ওয়া রব্বুল আরশিল কারি-ম)

(এবং সম্মানিত আরশের রব)

.

* আরো পড়ুন-

আমরা আমাদের কঠিন সময়ে এই দু‘আটির উপর আমল করবো, ইনশাআল্লাহ।

.

দুর্দশাগ্রস্ত অবস্থায় পড়ার জন্য নবিজি একটি হৃদয়গ্রাহী ভাষার দু‘আ শিখিয়েছেন। আসুন, শব্দে শব্দে অর্থসহ সেই দু‘আটি শিখে নিই।

রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘‘দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ হলো—

.

اَللّٰهُمَّ رَحْمَتَكَ اَرْجُوْ فَلَا تَكِلْنِيْ اِلٰى نَفْسِيْ طَرْفَةَ عَيْنٍ، وَاَصْلِحْ لِيْ شَاْنِيْ كُلَّهُ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ

.

[আল্লা-হুম্মা রহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি ত্বরফাতা ‘আইন, ওয়া আসলিহ লি শাঅ্নি কুল্লাহ, লা ইলা-হা ইল্লা আনতা]

.

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত কামনা করছি। এক মুহূর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিয়েন না। আপনি আমার প্রতিটি কাজকে ঠিকঠাক করে দিন। আপনি ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই।’’ [ইমাম আবু দাউদ, আস-সুনান: ৫০৯০; ইমাম বুখারি, আল আদাবুল মুফরাদ: ৭০১; হাদিসটি হাসান]

.

.

এবার শব্দে শব্দে শিখে নেওয়া যাক—

.

اَللّٰهُمَّ আল্লা-হুম্মা [হে আল্লাহ]

رَحْمَتَكَ রহমাতাকা [আপনার রহমত]

اَرْجُوْ আরজু [আমি কামনা করছি]

فَلَا تَكِلْنِيْ ফালা তাকিলনি [আমাকে ছেড়ে দেবেন না]

اِلٰى ইলা [দিকে]

نَفْسِيْ নাফসি [আমার নফস (আত্মা)]

طَرْفَةَ ত্বরফাতা [পলক]

عَيْنٍ ، আইন [চোখ]

وَاَصْلِحْ ওয়া আসলিহ [এবং সংশোধন করে দিন]

لِيْ লি [আমার]

شَاْنِيْ শাঅ্নি [কাজ]

كُلَّهُ কুল্লাহ [প্রতিটি]

لَا লা [নেই]

اِلٰهَ ইলা-হা [উপাস্য]

اِلَّا ইল্লা [ব্যতীত]

اَنْتَ আনতা [আপনি]

.

.

এবার সহজে এভাবে মুখস্থ করা যায়—

.

اَللّٰهُمَّ আল্লা-হুম্মা [হে আল্লাহ]

.

رَحْمَتَكَ اَرْجُوْ রহমাতাকা আরজু

[আপনার রহমত কামনা করছি]

.

فَلَا تَكِلْنِيْ اِلٰى نَفْسِيْ

ফালা তাকিলনি ইলা নাফসি

[আমাকে আমার নিজের উপর ছেড়ে দিয়েন না]

.

طَرْفَةَ عَيْنٍ ত্বরফাতা ‘আইন

[চোখের পলকের (এক মুহূর্তের) জন্যও]

.

وَاَصْلِحْ لِيْ ওয়া আসলিহ লি

[আপনি সংশোধন করে দিন আমার]

.

شَاْنِيْ كُلَّهُ শাঅ্নি কুল্লাহ

[আমার প্রতিটি কাজকে]

.

لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ লা ইলা-হা ইল্লা আনতা

[আপনি ব্যতীত কোনো প্রকৃত উপাস্য নেই]

.

নামাজের সিজদায় এবং সালাম ফেরানোর আগে দু‘আটি পড়তে পারেন। কিংবা দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়গুলোতেও পড়তে পারেন। অথবা, দু‘আর আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াও মুখে জপতে পারেন।

.

অবশ্যই মনোযোগের সাথে অর্থের দিকে খেয়াল রেখে, নিজের অসহায়ত্ব উপস্থাপন করে দু‘আটি পড়বেন। তাহলে ফায়দা পাবেন, ইনশাআল্লাহ।

.

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

আল্লাহ আমাদের সবার দোয়া কবুল করুক। এবং পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে মাফ করুক; আমিন

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ, গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ, গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ, গুরুত্বপূর্ণ দোয়া সমূহ

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

আল্লাহ হাফেজ ..

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *