দরুদ পাঠের দুনিয়াবী ফজীলত সম্পর্কিত একটি চমৎকার ঘটনা

ইসলামিক কর্ণার

দরুদ পাঠের একটি চমৎকার ঘটনা

অবশ্যই দরুদ পাঠের দ্বারা বান্দা অনেক অনেক ফজীলত হাসিল করতে পারে। আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো দরুদ পাঠ করা। আল্লাহর খাস অনুগ্রহ ও রহমত পাওয়ার জন্যও দরুদ-পাঠ অনেক উপকারী একটি আমল। রাসূলের উপর দরুদ পাঠ সংক্রান্ত আয়াত ও হাদিস বহু রয়েছে। সেগুলো উল্লেখ করা মাকসাদ নয়। প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি দুরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ ইবাদত। একবার দুরুদ পাঠ করলে দশটি রহমত বর্ষিত হয়। কিন্তু বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করলে সকল প্রকার দু:শ্চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা ও উৎকণ্ঠা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সেই সাথে এর মাধ্যমে মোচন করা হয় জীবনের পাপরাশী।

এখানে দরুদ পাঠের দুনিয়াবী ফজিলতের সাথে সম্পৃক্ত একটি ঘটনা উল্লেখ করা হচ্ছে।

ঘটনাটি শুরু করছি-

জনৈক ব্যক্তি একবার অত্যন্ত পেরেশানি ও মুসিবতে পড়ে গেল। বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে বেশ ঋণ নিয়েছিল সে। একসময় ঋণ বাড়তে বাড়তে পাঁচশত দিনারে গিয়ে ঠেকল। পাঁচশত স্বর্ণমুদ্রা!

সে ঋণ আদায়ে একেবারেই অক্ষম হয়ে পড়ল। এদিকে পাওনাদাররাও ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে লাগল।

এমন সময় লোকটি এক ব্যবসায়ীর কাছে সহযোগিতা চাইল। ব্যবসায়ী তাকে সে পরিমাণ দিনার ঋণ দিতে রাজি হল এবং একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে ঋণ আদায়ের শর্ত জুড়ে দিল।

নির্ধারিত দিনে ব্যবসায়ী তার দিনারগুলো চাইতে এলো। কিন্তু ঋণগ্রহিতা লোকটি ঋণ পরিশোধ করতে পারল না। কোন জায়গা থেকেই ঋণের অর্থ যোগাতে পারল না।

অতঃপর-

ব্যবসায়ী এলো কাজী সাহেবের কাছে মামলা দায়ের করতে।

কাজী সাহেব ঋণগ্রহিতাকে কারাগারে আটকে রাখার নির্দেশ দিলেন।

ঋণগ্রহিতা বিনয়সিক্ত কণ্ঠে কাজী সাহেবকে বলল, হুজুর! সামান্য সময় দিন আমাকে। পরিবার আমাকে না পেলে বড় পেরেশানিতে পড়ে যাবে। তাদেরকে জানিয়ে আশ্বস্ত করে আবার আপনার দরবারে উপস্থিত হব আমি। কালই চলে আসব। দরুদ পাঠের একটি চমৎকার ঘটনা

>

কাজী বললেন, তুমি কাল আসবে- এর জামিন হবে কে?

লোকটি কাজী সাহেবকে অবাক করে দিয়ে বলল, আমার জামিন সাইয়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.। অর্থাৎ আমি যদি সময় মতো না আসি তাহলে আমি রাসূলের উম্মত নয়।

কাজী সাহেব পরহেজগার লোক ছিলেন। তাই লোকটিকে এ-কথার উপরই বাড়িতে যাবার সুযোগ দিলেন।

>

লোকটি ঘরে ফিরে স্ত্রীকে সব খুলে বলল। স্ত্রী ছিলেন পরহেজগার নারী। সব শুনে স্বামীকে সে বলল, আপনি যেহেতু রাসূলুল্লাহ সা.কে জামিন বানিয়েছেন। তাই আসুন আমরা আজ রাতভর দরুদ পাঠ করি। আশা করি আল্লাহ বিপদ দূর করে দিবেন। হাদিস শরিফেও এমনই বলা হয়েছে।

এশার নামাজ পড়ে স্বামী-স্ত্রী মুসল্লায় বসে দরুদ পাঠ শুরু করল। দরুদ পাঠের মাঝেই রাত অনেক গভীর হল। এক সময় উভয়েই ঘুমিয়ে পড়ল।

>

এমন সময় লোকটি স্বপ্নে প্রিয় নবী সা.এর দিদার লাভ করল। রাসূল সা, তাকে বললেন, তুমি কাল সকালে শহরের গভর্নরের কাছে যাবে। তাকে আমার সালাম জানাবে আর বলবে, রাসূলুল্লাহ সা. আপনাকে আমার ঋণ পরিশোধ করে দিতে বলেছেন।

>

প্রত্যুষে ঋণগ্রস্ত অসহায় লোকটি গভর্নরের বাসভবনে গিয়ে হাজির হল। গভর্নরকে রাসূলে কারিম সা.এর পয়গাম পৌঁছে দিল। গভর্নর স্বপ্নের সত্যতা সম্পর্কে প্রমাণ দিতে বললেন।

স্বপ্নে রাসূল সা. দুটি প্রমাণ দিয়েছিলেন।

এক, গভর্নর প্রতিরাতে এক হাজার বার দরুদ পাঠ করে ঘুমান। এর ব্যতিক্রম হয়না কখনো।

দুই, গতরাতে তিনি নয়শত নিরানব্বই বার পড়েছেন। একবার গণনা থেকে ছুটে গিয়েছে। কিন্তু রাসূল সা.এর নিকট তা পূর্ণ এক হাজার রূপেই পৌঁছেছে।

রাসূলের এরশাদ শুনে গভর্নর অনেক কাঁদলেন। স্বপ্নের সত্যতা বুঝতে পারলেন তিনি।

ঋণগ্রহিতাকে তিনি জিজ্ঞেস করলেন কত দিনার তার ঋণ রয়েছে। সে বলল, পাঁচশত দিনার।

গভর্নর বাইতুল মাল থেকে ঋণগ্রস্ত লোকটিকে দুই হাজার পাঁচশত দিনার দিয়ে দিলেন। বললেন, পাঁচশত তোমার ঋণ পরিশোধের জন্য। আর দুই হাজার হাদিয়া।

* আরো পড়ুন:

লোকটি দিনারগুলো নিয়ে কাজীর দরবারে হাজির হল। এখন সে তার ঋণ পরিশোধ করে দিয়ে মুক্ত স্বাধীন হয়ে যাবে ঋণের বোঝা থেকে।

কাজীর দরবারে প্রবেশ করতেই কাজী তাকে বললেন, এসো এসো। আমি তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম।

তার দিকে একটি দিনার ভর্তি থলে এগিয়ে দিয়ে কাজী সাহেব বললেন, এই নাও পাঁচশত দিনার। আমিই তোমার ঋণ পরিশোধ করে দিচ্ছি। তোমার আসল ঋণ আমি শোধ করতে পারব না। কারণ, তোমার ওসীলায় আমি গতরাতে আল্লাহর রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছি।

বেচারা ঋণগ্রহিতা বেশ অবাক হল। কী ঘটছে এসব কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না সে।

কাজী সাহেব তাকে আরো বললেন, গতরাতে সাইয়িদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলূল্লাহ সা. আমাকে স্বপ্নে বললেন, তুমি যদি ঋণগ্রস্ত লোকটির ঋণ পরিশোধ করে দাও তাহলে আমি কেয়ামতের দিবসে তোমার পক্ষে সুপারিশ করব।

>

এমন সময় দরবারে প্রবেশ করল ঋণদাতা ব্যবসায়ী। প্রবেশ করেই কাজী সাহেবকে উদ্দেশ্য করে সে বলল,

কাজী সাহেব! আমি তার ঋণ ক্ষমা করে দিলাম। আর এই থলেতে পাঁচশত দিনার রয়েছে। এটা তার জন্য হাদিয়া।

কারণ, তার কারণে আমি আল্লাহর প্রিয় রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছি। রাসূল সা. আমাকে বললেন, আমি যদি তার ঋণ মাফ করে দিই তাহলে রোজ হাশরে তিনি আমার জন্য মাগফেরাতের সুপারিশ করবেন।

>

দিনার ও স্বর্ণমুদ্রা ভর্তি থলেগুলো নিয়ে সীমাহীন আনন্দ-চিত্তে ঋণগ্রহিতা লোকটি বের হয়ে আসল কাজীর দরবার থেকে। এরপর সোজা চলে গেল স্ত্রীর কাছে।

তার স্ত্রীর কারণেই আজ সে এতকিছুর মালিক। তার জীবনে প্রাচুর্য। এজন্য স্ত্রীকেই সবার প্রথম জানাল পুরো ঘটনা।

বলল, দেখো বউ!

এত সম্পদ আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন শুধু দরুদ পাঠের কারণেই। দরুদের আমলে কত বরকত, কত রহমত !!!!! আর তোমার কারণেই যেহেতু আমরা দরুদ পাঠ করেছি তাই এগুলো তোমার হেফাজতেই রাখো। দরুদ পাঠের একটি চমৎকার ঘটনা

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা তাসলিমান কাছিরান কাছিরান আদাদা মা ফিল আরদি ও ওয়াস সামাওয়াতিস সাবয়ি

 চলুন জেনে আসি দরুদ পাঠ এর অসংখ্য ফজিলত সম্পর্কে-

صلى الله عليه وسلم

১. প্রতিবার দুরুদ পাঠে ১০বার রহমত নাজিল হয়।

২.প্রতিবার দুরুদ পাঠে ১০টি নেকি লাভ হয়।

৩.প্রতিবার দুরুদ পাঠে ১০টি গুনাহ মাফ হয়।

৪.প্রতিবার দুরুদ পাঠে ( জান্নাতে) ১০টি মর্যাদার ধাপ বৃদ্ধি পায়।

৫.পেরেশানি দূর হয়।

৬.রাগ নিয়ন্ত্রণ হয়।

৭.স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।

৮.রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃযদি তুমি কোন কিছু ভুলে যাও তাহলে আমার উপর দুরুদ পাঠ কর ইনশাআল্লাহ ভুলে যাওয়া জিনিস মনে পড়বে।

৯.সকল প্রকার বিপদ আপদ দূরীভূত হয়।

১০.দেহ রোগমুক্ত থাকে।

১১.হায়াত বৃদ্ধি পায়।

১২.যাবতীয় অভাব অনটন দূর হয়।

১৩.দোয়া কবুল হয়( কোনো দোয়ার মধ্যে দুরুদ না থাকলে সেই দোয়া আল্লাহর কাছে পৌছায় না)।

১৪.সকল বিষয় এ উন্নতি সাধন হয়।

১৫.যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়(চাকরী না হওয়া,ব্যবসায়ে লোকসান, বিয়ে না হওয়া, সন্তান হয়না,মনের আশা পূরণ হয়না অথবা যেকোনো সমস্যার সমাধান হবে)।

১৬. দ্বীন দুনিয়ার সকল উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

১৭. সমস্ত গুনাহ মাফ হবে।

১৮. সপ্নযোগে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর দীদার নসিব হয়।

১৯.নিয়মিত বেশি বেশি দুরুদ পাঠকারীর হাশরের ময়দান এ হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর শাফায়াত লাভ করবে।ফুলসিরাত পার করা সহজ হবে।

২০. জা’হান্নাম হারাম, জান্নাত অনিবার্য হয়ে যাবে।

[তিরমিজি,মুসলিম,মেশকাত,নাসাঈ]

দরুদ পাঠের ‍অনেক ফজিলত আছে, এই অল্প পরিসরে বলে শেষ করা সম্ভব নয়।

অতএব, আসুন আমরা আজকে থেকেই সহীহ নিয়ত করি,

রাতে ও দিনে – সকাল ও সন্ধ্যা আমরা সবাই অধিক পরিমাণে দরুদ শরিফ পাঠ করবো-

ইনশাআল্লাহ ।

Like

Comment

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *