দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান

ভ্রমণ

দার্জিলিং- যেখানে সময় স্থির থাকে এবং সৌন্দর্য কখনই ম্লান হয় না…

দার্জিলিং যাকে কিনা বলা হয় ” Queen of the Himalayas “

কেনোই বা বলবে না হিমালয়ের কোলঘেসে গড়া ওঠা সুন্দর একটি শহর দার্জিলিং, যেখান থেকে আপনি সূর্যদয়ের সময়কার হিমালয় কে উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়াও রয়েছে সবুজে ভরা পাহাড় যার গায়ে চাদরের মতো জড়িয়ে আছে চা গাছ। এছাড়াও রয়েছে ইতিহাসের অনেক নিদর্শন। এজন্যই পূর্ব ভারতের অন্যতম সুন্দর হিল স্টেশন হলো দার্জিলিং।

দার্জিলিং থেকে কিন্তু আপনি একসাথে হিমালয়ের ৫ টি সর্বোচ্চ চূড়ার ৪ টিকেই দেখতে পারবেন।

দার্জিলিং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং জেলার একটি শহর। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৭,১০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। কাঞ্চনজঙ্ঘার অনুপম সৌন্দর্য এবং টাইগার হিলের সূর্যোদয় দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার পর্যটক এখানে ভিড় করেন। কালিম্পং, কার্শিয়ং ও শিলিগুড়ি হল এই জেলার অপর তিন প্রধান শহর। এই জেলার অপর গুরুত্বপূর্ণ শহর মিরিক এখন একটি বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র।

দার্জিলিংয়ের কিছু দর্শনীয় স্থান যা কেবল আপনি পায়ে হেটে পৌঁছাতে পারবেন। গাড়ি শুধুমাত্র একটি জায়গা পর্যন্ত যেতে পারে, এরপর আপনার হাঁটার প্রয়োজন হবে। তাই সাধারণভাবে, দার্জিলিংয়ের সাইট ভিজিট দিনের শুরুতে শুরু করা উচিত। মনে রাখবেন, পাহাড়গুলিতে পথের দূরত্ব সমতলের সমান দূরত্বের প্রায় তিন গুণ।

দার্জিলিংয়ের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার রুট-প্লান, থাকা-খাওয়া ও খরচ এর একটি আনুমানিক হিসাব এই পোষ্ট এর শেষে দেওয়া আছে।

দর্শনীয় স্থানসূমহ:

১) জাপানিজ টেম্পল ও পিস প্যাগোডা:

এটি বিশ্বের সকল জাতি ও ধর্মের মানুষের মিলন ও বিশ্বশান্তির বার্তা প্রচারের জন্য স্থাপিত। এর প্রতিষ্ঠাতা হল নিচিদাতসু ফুজি। এর উচ্চতা প্রায় ৯৪ ফুট।

২) পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিকাল পার্ক:

চিড়িয়াখানা এবং হিমালয় পর্বতমালা ইনস্টিটিউট (এইচএমআই) প্রধান প্রবেশদ্বার একই এবং উভয় একই সময়ে আপনি ভিজিট করতে পারবেন। এই চিড়িয়াখানাটির অনন্য বৈশিষ্ট্যটি হ’ল এখানকার বেশিরভাগই প্রাণীর আবাসস্থল হিমালয় পর্বতমালার এর উপরে। চিড়িয়াখানায় রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ড, তিব্বতীয় নেকড়ে সহ পূর্ব হিমালয়ের প্রচুর বিপদগ্রস্ত ও বিলুপ্ত পাখি ও প্রাণীদের দেখতে পাওয়া যায়।

৩) হিমালয় পর্বতমালা ইনস্টিটিউট (এইচএমআই):

এইচআইএমআই নিজেই একটি গন্তব্য এবং বিশ্বের সমস্ত পর্বতারোহণ আরোহী ও উত্সাহীদের জন্য একটি তীর্থযাত্রা বলে বিবেচিত। ১৯৫৩ সালে তেনজিং নর্গে এবং স্যার এডমুন্ড হিলারি এভারেস্টে আরোহণের পর তাদের সম্মানে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

৪) দার্জিলিং রোপওয়ে (রঞ্জিত ভ্যালি যাত্রী কেবল কার):

দার্জিলিংয়ের প্যানোরামিক দৃশ্যগুলি উপভোগ করার সেরা উপায়গুলির মধ্যে একটি হলো রোপওয়েতে যাত্রা করে। এই রোপওয়েটি লিটল রঞ্জিত নদী, নদীর পাশ ঘেরা উপত্যকা ও চা বাগানের উপর দিয়ে চলে গেছে। কেবল কারটির বর্তমান রুট হলো সিঙ্গামারী-তুকভার-সিঙ্গামারী। ভ্রমণ সময় প্রায় ৪৫ মিনিট। ভাড়া জনপ্রতি ২০০ রুপি করে। তবে এপ্রিল ২০১৮ থেকে অদ্যবধি (সেপ্টেম্বর ২০১৮) বন্ধ আছে। কবে চালু হবে যানা যায়নি।

৫) দার্জিলিং মল বা চৌরস্তা, দেশবন্ধু মিউজিয়াম ও মহাকাল মন্দির:

দার্জিলিং মল বা চৌরস্তা দার্জিলিং শহরের প্রাণকেন্দ্র। মল রোডের এক দিকটি পাইন গাছের সারি ও নীচে পাহাড় যেখানে আপনি সূর্য অস্ত দেখতে পারেন। মল চত্তর কে মাঝে রেখে মল রোডটি ইউ লুপের মতো ঘুরেছে। আপনি পায়ে হেটে ৩০ মিনিটে এই ইউ লুপ রোড ঘুরে আসতে পারেন। এই রোডে দেশবন্ধু মিউজিয়াম, মহাকাল মন্দিরের অবস্থান যেটা আপনি দেখতে পারেন। এই রোডকে কেন্দ্র করে অনেক লাক্সারি রির্সোট আছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে রির্সোট রুম থেকে হিমালয়ের তুষারে ঢাকা পর্বত শিখরগুলি দেখা যায়। এছাড়াও, এখানে অনেক বুটিক দোকান ও স্ট্রিট ফুডের দোকান আছে।

* আরো পড়ুন:

৬) টাইগার হিল:

টাইগার হিল হল ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের উচ্চতম স্টেশন ঘুম শহরের সর্বোচ্চ বিন্দু যা দার্জিলিং শহর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখান থেকে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে মাউন্ট এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত-এর তুষারে ঢাকা শিখরগুলির দৃশ্যপট দৃষ্টিগোচর হয়।

৭) বাটাসিয়া লুপ, বাটাসিয়া ওয়ার মেমোরিয়াল ও ঘুম রেলওয়ে স্টেশন:

বাটাসিয়া লুপঃ দার্জিলিং টাউন থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বাটাসিয়া লুপটি একটি সর্পিল রেল পথ যা টয় ট্রেনের উচ্চতা থেকে হঠাৎ তীক্ষ্ণ পতন থামানোর জন্য বানানো হয়। এটি ঘুম রেলওয়ে স্টেশন এর নীচে অবস্থিত।

ওয়ার মেমোরিয়াল: এই ওয়ার মেমোরিয়ালটি ১৯৪৭ সালের পরে যত সৈনিক মারা গেছে তাদের সন্মানে ১৯৯১ সালে তৈরি হয়। এখানে একটি যুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ আছে। বাটাসিয়া লুপটি এই স্মৃতিস্তম্ভ ঘিরে এর পাশ ঘেষে চলে গেছে।

ঘুম রেলওয়ে স্টেশন: ঘুম রেলওয়ে স্টেশন ভারতের সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশন এবং এশিয়ার ২য় সর্বোচ্চ রেলওয়ে স্টেশন। এটি ৭০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত।

৮) ডালি মঠ:

দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ডালিতে অবস্থিত, যদিও এই মঠটিকে সাধারণত ডালি মঠ নামে পরিচিত, এটি প্রকৃত নাম ড্রুক সাংগ চোলিং মঠ। আপনি যখন একটু দূর থেকে এই আশ্রমের দিকে তাকাবেন, এটা অনেক সুন্দর দেখাবে। এই মঠের সাদা ভবনগুলি তিব্বতী শৈলীতে নির্মিত এবং একটি খাড়া পাহাড়ে অবস্থিত।

৯) রক গার্ডেন:

রক গার্ডেন (বারবোট রক গার্ডেন নামেও পরিচিত) চুনু সামার ফল এবং গঙ্গা মায়া পার্কে অবস্হিত। রক গার্ডেনটি পাথরগুলির মধ্য দিয়ে কাটা হয়েছে এবং এর বিভিন্ন স্তরগুলিতে ফুল উদ্যান, ঝরনা ও বাগান রয়েছে। এখানে জলপ্রপাত এর মধ্যে দিয়ে সুন্দর বসার ব্যবস্থা রয়েছে।

১০) টয় ট্রেন:

দার্জিলিং হিমালয়ান রেল পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং শহরের মধ্যে চলাচলকারী একটি ২ ফিট (৬১০ মি.মি) ন্যারো গেজ রেল পরিষেবা। এই রেল টয় ট্রেন নামে সমধিক পরিচিত। দার্জিলিং হিমালয়ান রেল ভারতীয় রেল কর্তৃক পরিচালিত।

১৮৭৯ থেকে ১৮৮১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে নির্মিত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য ৮৬ কিলোমিটার (৫৩ মাইল)। এটি বাষ্পচালিত ও ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে চলে। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো দার্জিলিং হিমালয়ান রেলকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।

রুট-প্লান ও খরচ:

দিন ০- কমলাপুর থেকে রাত ৮টায় শ্যামলী এনআর পরিবহন। টিকেট ১৬০০ টাকা/প্রতিজন ব্যক্তি।

রুট: ঢাকা (রাত ৮টা) – বুড়িমারী (সকাল ৮টা) – চেংরাবান্ধা (সকাল ১১টা) – শিলিগুড়ি (দুপুর ১ঃ৩০)।

পথিমধ্যে খাবার:

(i) মিড নাইট ব্রেক, ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্ট সিরাজগঞ্জঃ পারাটা, গরুর মাংস, চা। জনপ্রতি ২৪০ টাকা।

(ii) সকালের নাস্তা, বুড়ির হোটেল বুড়িমারীঃ ভাত, চিকেন, ডাল, সালাদ ও চা। জনপ্রতি ১২০ টাকা।

(iii) লাঞ্চ, হোটেল সেন্ট্রাল প্লাজা রেস্তোরাঁয়ঃ ভাত, ডাল, মিক্সড সবজি, মাছ এবং সালাদ। জনপ্রতি ২৭০ রুপি।

দিন ১- শিলিগুড়ি শ্যামলী বাস কাউন্টার থেকে দুপুর ৩ টায়

টাটা শুমো (৭ আসন), ভাড়া ২৩০০ – ৩০০০ রুপি।

রুট: শিলিগুরি (দুপুর ৩টা)- মিরিক (বিকাল ০৫ঃ৩০)- দার্জিলিং (সন্ধ্যা ৭টা)।

ডিনার এবং হোটেলে রাত যাপন।

হোটেল এবং খাবারের জন্য নোট:-

(i) হোটেল: ওমেগা রেসিডেন্সি, লামা রোড।

অফ সিজন হোটেল ডিল: ডিলাক্স রুম (১টি মাস্টার বেড), ভাড়া: ২০০০রুপি/রাত।

(ii) সিজনের সময় হোটেল খরচ (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারী)ঃ

কুইজ/ধাঁধাঁ টপিকের উপর আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

ডিলাক্স রুম (১টি মাস্টার বেড), ভাড়া রুম ৪০০০রুপি/রাত (iii) ইসলামিয়া রেস্টুরেন্টঃ ওমেগা হোটেলের পাশে। হালাল খাদ্য পাওয়া যায়। খাবারের স্বাদ মোটামোটি।

দিন ২: সকাল (সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত)

পরিবহন: টাটা শুমো (৭ আসন), ভাড়া ১৩০০-১৫০০ রুপি। রুট প্ল্যান: হোটেল-জাপানি মন্দির ও পিস পাগোডা- হিমালয় জুওলজিকাল পার্ক- হিমালয় পর্বতমালা ইনস্টিটিউট (এইচএমআই) – রঞ্জিত ভ্যালি চা গার্ডেন-হোটেল।

দিন ২ঃ সন্ধ্যা (বিকাল ৫ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত)

পরিবহনঃ পায়ে হেটে।

রুট প্ল্যানঃ হোটেল-মল চত্তর ইউ লুপ- বিগবাজার-হোটেল।

ডিনার এবং হোটেলে রাত যাপন।

দিন ৩ঃ সকাল (ভোর ৪ টা থেকে সকাল ১১ টা পর্যন্ত) পরিবহনঃ টাটা শুমো (৭ আসন), ভাড়াঃ ১৩০০-১৫০০ রুপি।

রুট প্ল্যানঃ হোটেল- টাইগার হিল- বাটাসিয়া লুপ- ডালি মঠ- রক গার্ডেন- হোটেল।

দিন ৩ঃ বিকাল ৩ঃ৩০ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত

পরিবহনঃ পায়ে হাঁটা

রুট প্ল্যান: হোটেল- দার্জিলিং রেল স্টেশন- টয় ট্রেন জয় রাইড (দার্জিলিং-ঘুম-দার্জিলিং)- চুক বাজার/বিগ বাজার কেনাকাটা- হোটেল।

টয় ট্রেন জয় রাইড নোটঃ-

(i) দুই ধরনের টয় ট্রেন চলে। এক বাষ্প ইঞ্জিন এবং অন্য ডিজেল ইঞ্জিন।

(ii) জয় রাইড রুটঃ দার্জিলিং-গুম-দার্জিলিং

(iii) দূরত্ব: ৬.৫ কিলোমিটার। সময় লাগেঃ ২ ঘন্টা

(iv) টয় ট্রেনের টিকেট জন প্রতি খরচঃ ডিজেল ইঞ্জিনঃ ৮০৫ রুপি। বাষ্প ইঞ্জিনঃ ১৩০৫ রুপি।

v) ডিজেল ইঞ্জিনের সময়সূচী: সকাল ১০ টা; দুপুর ২ঃ৪৫ ও বিকেল ৪ঃ২০ টা

(vi) অগ্রিম টিকেট কেটে রাখা ভাল। চেষ্টা করুন ডিজেল ইঞ্জিন চালিত টয় ট্রেনে উঠার।

দিন ৪ঃ হোটেল থেকে চেক আউট সকাল ৬ টায়

পরিবহনঃ টাটা শুমো (৭ আসন), ভাড়া ২৩০০-৩০০০ রুপি। রুট প্লানঃ দার্জিলিং (সকাল ৬ টা)- মিরিক (সকাল ৯ টা)-

শিলিগুড়ি (সকাল ১১ঃ৩০)- চেংড়াবান্ধা (বিকাল ৫ টা)- বুড়িমারি (রাত ৮ টা)- ঢাকা (সকাল ৮ টা)

নোটঃ-

(i) পথিমধ্যে ভারত ও নেপালের বর্ডার সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এর শিমানা ভিউ পয়েন্টে ব্রেকফাস্ট করুন।

মেনুঃ লুচি, সবজি এবং চা। জন প্রতি ৬০ রুপি।

(ii) মিরিক লেকে একটি সংক্ষিপ্ত বিরতি দিন ও ঘুরুন। চাইলে ঘোড়ায় চড়ে লেকের পাশ দিয়ে ঘুরতে পারেন, খরচ

জন প্রতি ১৫০ রুপি।

(iii) হোটেল সেন্ট্রাল প্লাজা রেস্তোরাঁতে লাঞ্চ। মেনুঃ ভাত, ডাল, মিক্সসবজি, চিকেন এবং সালাদ। জন প্রতি ২৫০ রুপি।

শিলিগুড়ি থেকে শ্যামলী এনআর পরিবহন ছাড়ে দুপুর ১ঃ৩০ ও চেংড়াবান্ধা পৌছে বিকাল ৫ টা। বুড়িমারি থেকে ছাড়ে রাত ৮ টায়।

বিঃদ্রঃ আসুন আমরা দার্জিলিং শহর ঘুরতে গিয়ে ময়লা ও আবর্জনা নির্ধারিত জায়গায় ফেলি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি।

.

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে , ভালো লাগা. খারাপ লাগা সবকিছু কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান, দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান, দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান, দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান, দার্জিলিং শহর ভ্রমণ প্লান

ধন্যবাদ

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *