দুআ পড়ার ফজিলত

ইসলামিক কর্ণার

কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো

আবু হুরাইরা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “প্রত্যেকদিন রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আমাদের রব (আল্লাহ) সবচেয়ে নীচের আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন, ‘কে আমাকে ডাকছো, আমি তোমার ডাকে সাড়া দেবো। কে আমার কাছে চাইছো, আমি তাকে তা দেবো। কে আছো আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী, যে আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো?” (সহীহ বুখারী)

.

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “আল্লাহর কাছে তাঁর একজন উপাস্য সবচেয়ে নিকটতম যে সময়টাতে আসতে পারে তা হলো রাতের শেষ তৃতীয়াংশ। সুতরাং তোমরা যদি পারো তাহলে তোমরা তাদের একজন হও যারা সে সময় আল্লাহর স্মরণ করে”। (তিরমিজি, নাসায়ী, আল হাকিম-সহীহ)

.

রাসুলুল্লাহ সাঃ বলেছেন, “রাতে এমন একটি সময় আছে যে সময়টাতে কোন মুসলিমের এমনটা হয়না যে সে এই পৃথিবী কিংবা পরকালের জোবনের জন্য আল্লাহর কাছে কিছু চাইলো আর তাকে তা দেয়া হলো না। আর এটা প্রতিটি রাতেই ঘটে”। (মুসলিম-৭৫৭)

.

তাহলে চলুন আজকে আমরা জানবো কোন দোয়া কোন সময়ে করতে হয়।

আমরা কোনো বিপদ-আপদ ও দুশ্চিন্তায় পড়লে অর্থের দিকে খেয়াল রেখে একটি দু‘আ বেশি বেশি পড়লে বেশ ভালো লাগবে। দু‘আটি শব্দে শব্দে অর্থ ও উচ্চারণসহ দেওয়া হলো।

.

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—

.

اَللّٰهُمَّ لَا سَهْلَ اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا وَاَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ اِذَا شِئْتَ سَهْلًا

.

(আল্লা-হুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা, ওয়া আনতা তাজ‘আলুল হাযনা ইযা শিঅ্তা সাহলা)

.

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি যা সহজ করেন, তা ছাড়া কোনো কিছুই সহজ নয়। আর আপনি যখন চান, তখন দুঃখ-দুশ্চিন্তাকে সহজ করে দেন। [ইমাম ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ২৪২৭; শায়খ আলবানি, সিলসিলা সহিহাহ: ৯৭০; হাদিসটি সহিহ]

.

এবার শব্দে-শব্দে অর্থসহ শিখতে পারি—

.

اَللّٰهُمَّ আল্লা-হুম্মা [হে আল্লাহ]

لَا লা [নয়]

سَهْلَ সাহলা [সহজ]

اِلَّا ইল্লা [ব্যতীত]

مَا جَعَلْتَهُ মা জা‘আলতাহু

[আপনি যেটিকে করেন]

سَهْلًا সাহলা [সহজ]

وَ ওয়া [এবং]

اَنْتَ আনতা [আপনি]

تَجْعَلُ তাজ‘আলু [করেন]

الْحَزْنَ আল-হাযন [দুঃখ-দুশ্চিন্তা]

اِذَا ইযা [যখন]

شِئْتَ শিঅ্তা [আপনি চান]

سَهْلًا সাহলা [সহজ]

.

.

* আরো পড়ুন-

.

সহজে মুখস্থ করতে পারি এভাবে—

.

اَللّٰهُمَّ لَا سَهْلَ আল্লা-হুম্মা লা সাহলা

[হে আল্লাহ! কোনো কিছুই সহজ নয়]

.

اِلَّا مَا جَعَلْتَهُ سَهْلًا

ইল্লা মা জা‘আলতাহু সাহলা

[আপনি যেটি সহজ করেন, সেটি বাদে]

.

وَاَنْتَ تَجْعَلُ الْحَزْنَ

ওয়া আনতা তাজ‘আলুল হাযনা

[আর আপনি দুঃখ-দুশ্চিন্তাকে করে দেন]

.

اِذَا شِئْتَ سَهْلًا

ইযা শিঅ্তা সাহলা

[সহজ, যখন আপনি চান]

.

ধরুন, কোনো টার্গেটে কাজ করছেন বা বিপদে পড়েছেন। সেখানে আপনার নিকট পর্যাপ্ত উপকরণ নেই, ফলে কাজটি সমাপ্ত করা কঠিন হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় নামাজের সিজদায়, সালাম ফেরানোর আগে বা যেকোনো দু‘আর মধ্যে আন্তরিকভাবে এই দু‘আটি অর্থের দিকে লক্ষ রেখে বেশি করে পড়ুন। নিজেকে আল্লাহর সামনে খুবই তুচ্ছ, মিসকিন হিসেবে উপস্থাপন করুন, সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর উপর নির্ভরশীল হয়ে দু‘আ করুন।

.

মাত্র একটি দু‘আর মাধ্যমে জীবনের প্রায় সব সমস্যা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়। দু‘আটি আমরা শব্দে শব্দে অর্থ ও উচ্চারণের অডিওসহ শিখে নিতে পারি।

.

আনাস ইবনু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন—

.

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

.

(আল্লা-হুম্মা ইন্নি আ‘উ-যুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল ‘হাযান, ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসাল, ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া দ্বলা‘ইদ দাইনি, ওয়া গালাবাতির রিজা-ল)

.

অর্থ: হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই—দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে; অক্ষমতা ও অলসতা থেকে; ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে এবং ঋণের বোঝা ও (আমার উপর) মানুষের প্রভাব-বিস্তার থেকে। [ইমাম বুখারি, আস-সহিহ: ৬৩৬৯]

.

* আরো পড়ুন-

.

দু‘আটির শব্দার্থগুলো শিখি—

.

اَللّٰهُمَّ আল্লা-হুম্মা (হে আল্লাহ)

اِنِّيْ ইন্নি (নিশ্চয়ই আমি)

اَعُوْذُ আ‘উ-যু (আশ্রয় চাই)

بِكَ বিকা (আপনার কাছে)

مِنَ الْهَمِّ মিনাল হাম্মি (দুশ্চিন্তা থেকে)

وَالْحَزَنِ ওয়াল ‘হাযান (দুঃখ থেকে)

وَالْعَجْزِ ওয়াল ‘আজযি (অক্ষমতা থেকে)

وَالْكَسَلِ ওয়াল কাসালি (অলসতা থেকে)

وَالْجُبْنِ ওয়াল জুবনি (ভীরুতা থেকে)

وَالْبُخْلِ ওয়াল বুখলি (কৃপণতা থেকে)

وَضَلَعِ الدَّيْنِ ওয়া দ্বলা‘ইদ্দাইনি (ঋণের ভার থেকে)

وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ ওয়া গালাবাতির রিজাল

(এবং মানুষের প্রভাব-বিস্তার থেকে)

.

.

এবার মুখস্থ করতে পারি এভাবে—

.

اَللّٰهُمَّ اِنِّيْ اَعُوْذُ بِكَ

আল্লাহুম্মা ইন্নি আ‘উ-যুবিকা

(হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই)

.

مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ মিনাল হাম্মি ওয়াল ‘হাযান

(দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে)

.

وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ

ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসাল

(অক্ষমতা ও অলসতা থেকে)

.

وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি

(ভীরুতা ও কৃপণতা থেকে)

.

وَضَلَعِ الدَّيْنِ ওয়া দ্বলা‘ইদ দাইনি

(ঋণের বোঝা থেকে)

.

وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ ওয়া গালাবাতির রিজাল

(এবং মানুষের প্রভাব-বিস্তার থেকে)

.

নিরুপায় অবস্থায় ও দুঃখ-কষ্টের সময়ে মুসা (আ.)-এর দু‘আটি দিয়ে দু‘আ করা যায়, যার অর্থ খুবই হৃদয়গ্রাহী। শব্দে শব্দে অর্থসহ দু‘আটি তুলে ধরা হলো।

মুসা (আ.) এমন এক সময় এই দু‘আটি করেছিলেন, যখন তিনি ফেরাউনের অত্যাচারে দেশছাড়া হয়ে বিদেশে ফেরারি জীবনযাপন করছেন। পুরো দুনিয়া তাঁর জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসছিলো। তখন তিনি দু‘আ করেন—

.

رَبِّ اِنِّيْ لِمَا اَنْزَلْتَ اِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ

.

[রব্বি ইন্নি লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাক্বি-র]

.

[অর্থ: (হে আমার) রব! আপনি আমার প্রতি যে-কল্যাণই অবতীর্ণ করবেন, আমি তারই ভিখারী (সুরা ক্বাসাস, আয়াত: ২৪)]

.

শব্দার্থগুলো শিখে নিন—

.

رَبِّ [রব্বি] হে আমার রব (প্রতিপালক)

اِنِّيْ [ইন্নি] নিশ্চয়ই আমি

لِمَا [লিমা] যা

اَنْزَلْتَ [আনযালতা] আপনি অবতীর্ণ করবেন

اِلَيَّ [ইলায়্যা] আমার প্রতি

مِنْ [মিন] হতে

خَيْرٍ [খাইরিন] কল্যাণ

فَقِيْرٌ [ফাক্বি-র] ভিখারী

.

সহজে মুখস্থ করতে পারেন এভাবে—

.

رَبِّ اِنِّيْ – রব্বি ইন্নি [হে আমার রব! আমি]

.

لِمَا اَنْزَلْتَ اِلَيَّ – লিমা আনযালতা ইলাইয়্যা

[যা আমার প্রতি অবতীর্ণ করবেন]

.

مِنْ خَيْرٍ فَقِيْرٌ – মিন খাইরিন ফাক্বি-র

[সেই কল্যাণেরই ভিখারী]

.

এই দু‘আটিতে চমৎকার একটি ব্যাপার আছে। মুসা (আ.) خَيْرٍ (কল্যাণ) প্রার্থনা করেছেন। আর ‘খাইর’ বা কল্যাণ শব্দটি অত্যন্ত ব্যাপক। এর দ্বারা রিজিক, কল্যাণকর কাজ, ইবাদত, শক্তি-সামর্থ্য, মাল-সম্পদ, নেককার জীবনসঙ্গী ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত। মুফাসসিরগণ এমনটিই বলেছেন।

.

আল্লাহর অশেষ রহমতে কিছুদিনের মধ্যেই মুসা (আ.)-এর বিবাহের বন্দোবস্ত হয়, থাকার জায়গা হয়, অর্থ-সম্পদের ব্যবস্থা হয় এবং রিযিকের চিন্তাও দূরীভূত হয়। আলিমগণ বিবাহে ইচ্ছুক ব্যক্তিদেরকে এই দু‘আটি অধিক পরিমাণে পড়তে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

.

দু‘আর সময় নিজেকে তুচ্ছ, হীন ও ক্ষুদ্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন আর বলতে থাকবেন উপরের দু‘আটি। কারণ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত আমাদের একটি সেকেন্ডও চলা সম্ভব নয়। নফল নামাজের সিজদায়, সালাম ফেরানোর আগে কিংবা দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়গুলো ছাড়াও যেকোনো সময় এটি পড়তে পারেন।

.

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

আল্লাহ আমাদের সবার দোয়া কবুল করুক। এবং পাশাপাশি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদের সবাইকে মাফ করুক; আমিন

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।দুআ পড়ার ফজিলত, দুআ পড়ার ফজিলত, দুআ পড়ার ফজিলত, দুআ পড়ার ফজিলত, দুআ পড়ার ফজিলত

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

আল্লাহ হাফেজ ..

Tag-

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *