দ্যা স্টেট অব গড: আবদুল কাইয়্যুম আহমেদ

বুক রিভিউ

ফিলিস্তিনের বুকে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এখন সূদুর অতীত। এখন সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে কেউ রাজি নয়। বড়জোর এই বিষয়গুলো মাঝেমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে আসে।

বই_পরিচিতি:

বইয়ের নাম: দ্যা স্টেট অব গড

লেখক: আবদুল কাইয়্যুম আহমেদ

প্রকাশক: দারুল ইলম

প্রচ্ছদ: আশিক ইলাহী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৬

মূল্য: ৩১২ ৳

লেখক_পরিচিতি:

আবদুল কাইয়্যুম আহমেদ।

এই তো, কিছুদিন আগে লেখালেখির জগতে পা রাখা এক নিমগ্ন সবুজ তরুণ। জন্মগ্রহণ করেছেন মাগুরা জেলার এক অখ্যাত গ্রামে। লেখাপড়ার হাতেখড়ি ঘরে মহীয়সী মায়ের হাতে। বাল্যকালেই শেষ করেছেন কুরআন কারিমের হিফয।

তারপর মাদরাসা শিক্ষার পাশাপাশি নিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার পাঠও। স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে এখন অধ্যায়নরত ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, কুষ্টিয়া বাংলাদেশ-এ।

বই_সম্পর্কে_কিছু_কথা:

ইহুদিদের প্রাচীন ইতিহাস, তাদের অবাধ্যতা আর অকৃতজ্ঞতার ফিরিস্তি, তাদের প্রতিশ্রুত ভূমি, ভূমির অধিকার আদায়ের লড়াই, এই ভূমির প্রকৃত মালিকানা আসলে ইহুদিরা নাকি পুরনো ফিলিস্তিন অভিবাসী? ‘দ্যা স্টেট অব গড’ উপস্থিত করেছে সেই অপশক্তির ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ অর্জনের এমন সব কু-কীর্তির সবিস্তার বর্ণনা, যা পড়ে একই সাথে পাঠক বিস্মিত হবে, শিউরে উঠবে, চিন্তিত হবে।সেইসব বিষয় নিয়েই ভীতি ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছে এই বই।

সংক্ষিপ্ত_আলোচনা:

বীরশেবা থেকে বেরিয়ে হারানের পথ ধরলেন ইসরাইল। খুব দ্রুত তাকে পৌঁছতে হবে হারানে। ভাইয়ের ঈর্ষা থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিতে হবে মামাবাড়িতে। পথিমধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেল। বিশ্রামের প্রয়োজন। বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। একটু বিশ্রাম নিতে গিয়েই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লেন। আর এই ঘুমেই তিনি স্বপ্ন দেখলেন—পৃথিবী থেকে সোজা আসমানের দিকে উঠে গেছে একটি সিঁড়ি। খোদার ফেরেশতারা ওঠানামা করছে সেই সিঁড়ি বেয়ে। স্বপ্নের মধ্যেই কিছুটা আনমনা অথবা কিছুটা বিভোর যেন তিনি; এমন দৃশ্য এই প্রথম দেখছেন। দুরু দুরু করছে বুক; ভোরের শিশিরভেজা হালকা ঝিরিঝিরি বাতাসে সকালের দুর্বাঘাসের মতো তিরতির করে উঠছে যেন ভেতরটা..

তিনি স্বপ্নে দেখলেন—খোদা তাকে একটি সুসংবাদ দিচ্ছেন। একটি প্রতিশ্রুতির কথা শোনাচ্ছেন তাকে। খোদা জানাচ্ছেন—যেই জায়গাটাতে শুয়ে আছেন ইসরাইল, সেই পুরো ভূমি-ই খোদা তাকে এবং তার বংশধরদের জন্য ‘নির্ধারণ’ করে রেখেছেন। একসময় তার বংশধর সংখ্যায় অসংখ্য-অগণিত হবে। সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে তারা। আর এই পুরো ভূমিটুকু তাদেরই মালিকানায় থাকবে। তারাই এই ভূমির অধিপতি হবে।

ঘুম থেকে ধড়ফড় করে জেগে উঠলেন ইসরাইল। তাহলে স্বপ্নে তিনি ‘পবিত্র ভূমির প্রতিশ্রুতি’ পেয়েছেন। উঠে তিনি ভালো করে চিনে রাখলেন জায়গাটা। এই জায়গাটাকে বলা হয় ‘লুজ’। লুজের নাম পরিবর্তন করে নিজের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে তিনি জায়গাটির নাম রাখলেন ‘বেথেল।’ আরবিতে যাকে বলে ‘বাইতুল্লাহ’। আল্লাহর ঘর। আর তিনি ওয়াদা করলেন—ভবিষ্যতে যদি নিরাপদে পরিবারের কাছে ফেরত যেতে পারেন, তবে শুকরিয়াস্বরূপ স্বপ্ন দেখা স্থানেই খোদার জন্য একটি ইবাদতখানা নির্মাণ করবেন তিনি।

ইসরাইল আলাইহিস সালাম প্রভাবশালী কেউ ছিলেন না; কিন্তু তারই বংশধর পৃথিবীতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ই-হু-দি-দের বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসের অপরিহার্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সেটা কীভাবে সম্ভব হলো- এই সব প্রশ্নের উত্তর হাজির করেছে এই বই : দ্যা স্টেট অব গড।

পাঠ_প্রতিক্রিয়া:

দারুল ইলম প্রকাশনীর আমার প্রথম পঠিত বই- দ্যা স্টেট অব গড। বইয়ের গুনগত মান অসম্ভব ভালো। বইয়ের বাইন্ডিং এত ভালো যে, বইটা হাতে নিলে এমনিতেই কয়েক পৃষ্ঠা পড়তে ইচ্ছে করবে। বইটা লেখক অত্যন্ত সুন্দর, সহজ ও সাবলীল ভাষায় উপস্থাপন করেছেন।

ইলুমিনাতির স্বপ্নভূমি ইসরাইল নিয়ে রচিত ‘দ্যা স্টেট অব গড’ বইয়ের লেখকের এর সাথে আমি সেই ছোটবেলা থেকেই পরিচিত, আমরা বন্ধুই বলা চলে। আমরা একসাথে একই জায়গায় থেকেছি, পড়াশোনা করেছি, আড্ডা দিয়েছি, একসাথে বসে গল্পের বই পড়েছি। বলতে গেলে আমার বই পড়ার প্রতি আগ্রহটাও তাকে দেখেই হয়েছিল।

যখন আমরা একসাথে বসে অনেক সময় আড্ডা দিতাম, লেখক বন্ধু এত সুন্দর করে গল্প করতো এত সুন্দর করে কথা বলতো যে, আমরা তার দিকে একদম তাকিয়ে থাকতাম। সে সম্মোহিত করে ফেলতো আমাদেরকে। এই বইটাও (দ্যা স্টেট অব গড) সেরকমই। খুবই সুখপাঠ্য একটা বই। লেখকের লেখার মান খুবই চমৎকার। গল্পের গাঁথুনি দেখে মনে হবে কত অভিজ্ঞ। অথচ এটা লেখকের দ্বিতীয় বই।

* আরো একটা বইয়ের রিভিউ পড়ুন-

‘দ্যা স্টেট অব গড’ বইটা পড়ে অনেক অজানা জিনিস জানতে পেরেছি। এতদিন ইতিহাসের অনেক তথ্য আমি ভুলভাবে জানতাম! কিন্তু এখন সঠিক ও নির্ভুল তথ্য জানতে পারছি। পড়ার ফাঁকে মনে হয়েছে, আহ্! কত বিকৃত ইতিহাস জানতাম এতদিন, যেগুলো আসলে সত্য না।

লেখক ‘দ্যা স্টেট অব গড’ বইটা অনেক সুন্দর করে লিখেছেন৷

আমার অনেক ভালো লেগেছে। আশা করি আপনাদের ও অনেক ভালো লাগবে।

বইটা কেন অন্যদের পড়া উচিত:

ফিলিস্তিনের বুকে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এখন সূদুর অতীত।

এখন সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে কেউ রাজি নয়। এখন বড়জোর এই বিষয়গুলো মাঝেমধ্যে সংবাদ মাধ্যমে আসে।

খ্রিস্টপূর্ব পনের শতকের শেষের দিকে মিশরের ‘কিবতি’রা একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদি আন্দোলন গড়ে তোলে। এরই ফলে মিশর থেকে ‘আমালিকা’ জাতির শাসনাবসান ঘটে। এ সময় মিশরের সিংহাসনে ছিলেন বিকসুস। এ বিকসুরের পতনের সঙ্গে সঙ্গে মিশর থেকে বনি ই-স-রা-ই-লের কর্তৃত শেষ হয়ে যায়। কিবতি গোত্রের এক প্রচন্ড হিংসুক বংশের লোক মিশরে এক নতুন রাজবংশের সূচনা করে। তার নাম রামোসিস প্রথম। তিনি ক্ষমতায় এসেই মিশর থেকে আড়াই লক্ষ আমালিকা গোত্রের লোকজনকে বিতাড়িত করে এবং বনি ই-স-রা-ই-ল ও আমালিককাদের শাসনকালীন কীৰ্তিচিহ্ন একটি একটি করে ধ্বংস করে দেয়, আর ই-স-রা-ই-লদের ওপর অমানুষিক অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করে।

ইহুদি জাতির সূচনা, জেরুজালেমের উত্থান-পতন, ক্রুসেডের সূচনা, ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা, আরব-ইসরাইল যুদ্ধ, ফিলিস্তিন আসলে কার?, ওয়ান ওয়ার্ল্ড অর্ডার, এরকম অনেক বিষয়ের তথ্যবহুল আলোচনা বক্ষমান বইটিতে উঠে এসেছে। বইটা পড়লে সঠিক ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যাবে।

সুতারং, ইসরাইল (আঃ) এর চতুর্থ সন্তান এহুদা থেকে ই-হু-দি-জাতি হয়ে গড়ে উঠার রোমহর্ষক-

অজানা তথ্য জানতে হলে এখনই হাতে নিন ‘দ্যা স্টেট অব গড’ বইটি।

বিশেষ কিছু লাইন:

মরিয়ামের গর্ভাবস্থা যখন প্রকাশ হয়ে পড়লো, তখন শুরু হলো বনি ইসরাইলের তীর্যক মন্তব্য।

অন্যোপায় হয়ে তিনি এক দূরবর্তী স্থানে চলে গেলেন এবং প্রসববেদনা অবস্থায় এক খেজুর গাছের নিচে আশ্রয় নিলেন।

অনুতপ্ত সুরে তিনি প্রার্থনা করলেন- ‘হায়’ এর আগে যদি আমি মারা যেতাম ও লোকের স্মৃতি থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হতাম।

তখন এক আহ্বানকারী তাকে বললেন-

তুমি দুঃখ করো না, তোমার পায়ের নিচে দিয়ে তোমার প্রতিপালক একটি মিষ্টি পানির নালা সৃষ্টি করেছেন।

তুমি খেজুর গাছের কান্ডে নাড়া দাও, তা তোমাকে পাকা ও তাজা খেজুর দান করবে।

সুতরাং খাও, পান করো ও চোখ জুড়াও।

* আরো পড়ুন-

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন।

আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।

বই পড়ুন, বইয়ের আলোয় নিজেকে আলোকিত করুন। বেশি বেশি বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। তুমি বই পড়নি মানে তোমার এক জীবন, তুমি বই পড়েছো মানে তোমার শত শত জীবন। সুতরাং, নিজে বই পড়ার পাশাপাশি অন্যদের কে উৎসাহিত করুন।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *