মিঠামইন হাওর ভ্রমণ 2024

ভ্রমণ

হাওরের সৌন্দর্যে আপনি মুগ্ধ হতে বাধ্য

মিঠামইন (Mithamoin):

কিশোরগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা মিঠামইন। মিঠামইনের উত্তরে ইটনা ও আজমিরিগঞ্জ উপজেলা, দক্ষিণে অষ্টগ্রাম উপজেলা, পূর্বে বানিয়াচং ও অষ্টগ্রাম, পশ্চিমে করিমগঞ্জ ও নিকলী উপজেলা। হাওর এলাকা হলেও এটি একটি প্রাচীন জনপদ। মিঠামইনকে অন্যান্য নামেও ডাকা হয় তার মধ্যে মিঠামন, মিটামইন বা মিটামন বলে উচ্চারণ করে থাকেন। নামের উৎস নিয়ে যে মত আছে তার একটি হলো গ্রামের পাশ্ববর্তী এলাকায় এক সময় প্রচুর মিষ্টি বা মিঠা রসের খাগড়া গাছের বন ছিল। এই খাগড়ার বন থেকে মিঠাবন এবং সেখান থেকে মিঠামন বা মিঠামইন হয়েছে। শহর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও কম সময়ে ঘুরে আসা যায় সেই জন্যে মিঠামইন হাওর এলাকা ভ্রমণ প্রিয় মানুষের জনসমাগম বেশি হয়ে থাকে।

নয়নাভিরাম হাওর মিঠামইন :

হাওর এলাকায় আসলে সবুজ শ্যামল বাংলার আসল চিত্র খুঁজে পাওয়া যায়

দিগন্ত বিস্তৃত হাওরের মধ্য দিয়ে পিচঢালা প্রশস্ত উঁচু সড়ক। হাওরের সৌন্দর্য যেন বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই সড়ক। এই রাস্তা দিয়ে হাওরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য খুব কাছে থেকে দেখা যায়। বাঁধ বা সড়কে দাঁড়িয়ে হাওর দেখা সাগর দেখার মতোই উপভোগ্য। দুই পাশে রাস্তায় ঢেউ আছড়ে পড়ার কলকল ধ্বনি মনকে উদ্বেলিত করে। দূর থেকে মনে হবে যেন যেতে যেতে পাকা রাস্তা মিশে গেছে জলের বুকে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের এক অপরূপ এলাকা কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল। দুই চোখের দৃষ্টি যত দূর যায়, পুরোটাই অথৈ পানি আর পানির উথালপাথাল ঢেউয়ের অবিরত ছুটে চলা।

এমন দৃশ্য উপভোগ করতে বারবার ছুটে যাওয়া যায়।

হাওর নিয়ে আরো কিছু বলতে গেলে :

যে দিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। হাওরের আয়নায় মেঘাচ্ছন্ন আকাশের সাজগোজ দেখার ঝোঁক কোনো ভ্রমণপিপাসু হৃদয় এড়াতে পারে না। দূর-প্রান্তরে কিছু গ্রাম দেখা গেলেও মনে হয় যেন পানির উপরে গ্রামগুলো ভেসে আছে। হাওরে নৌকায় করে ঘুরে বেড়ানোর সময় এখানকার গ্রামের বাড়িগুলো দেখতেও লাগে বেশ সুন্দর। মনে হয় যেন এক অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই হাওর।

হাওরের পাশে বসবাসরত মানুষ :

হাওরের রাস্তায় হাটতে হাটতে একটু দূরে এসে দূরে দু-চোখে তাকালেই চোখে পড়ে একেকটা গ্রাম। কিভাবে পানিতে ভেসে আছে! গাছগাছালিতে পূর্ণ। গ্রামগুলোতে টিনের ঘর, উঁচু দালান, গবাদিপশুর বিচরণ, মানুষের আনাগোনা।

* আরো পড়ুন:

গ্রামগুলো কার্যত একেকটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো।

প্রতিটি বাড়ির পেছনে বিশেষ কায়দায় বানানো সিঁড়ি হাওরের সঙ্গে মিশেছে। ঘাটে বাঁধা নৌকা। বাড়ি থেকে বেরিয়ে নৌকায় চড়ে মানুষের পারাপার হয়ে যার যার গন্তব্যে পৌঁছায়। ব্যাপারগুলো দেখতে আমাদের যতটা ভালো লাগবে, বাসিন্দাদের কাছে মোটেই ততটা সুখকর নয়। তাদের সাথে কথা বললেই বোঝা যায়, ওই জীবন কত কষ্টের। লড়াই-সংগ্রামেই কেটে যায় তাদের গোটা জীবন।

হাতে সময় আর সুযোগ বুঝে পরিকল্পণা করে ফেলুন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা।

মিঠামইনের হাওরে ভ্রমণ ছাড়াও দেখার মত আছে ঐতিহ্যবাহী নানা স্থাপনা, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :

মালিকের দরগা :

মিঠামইন থেকে ট্রলার যোগে ঘাগড়া। সেখান থেকে আবার ট্রলার যোগে মালিকের দরগা যেতে হয়। আবার আসার সময় মালিকের দরগাহ থেকে ট্রলার দিয়ে ঘাগড়া। ঘাগড়া থেকে আবার ট্রলার যোগে মিঠামইনের উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হয়। সময় লাগে ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট। শুকনো মৌসুমে মিঠামইন থেকে টেম্পু দিয়ে ঘাগড়া অথবা মটর সাইকেলে মালিকের দরগা যাওয়া যায়।

দিল্লির আখড়া :

কিশোরগঞ্জ থেকে বাস বা সিএনজি করে চামড়া ঘাট। চামড়া ঘাট থেকে ট্রলার দিয়ে যেতে হয় দিল্লির আখড়ায়।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়ি :

মিটামইনের কামালপুর গ্রামে মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে কাটিয়ে আসতে পারেন কিছুটা সময়।

এ ছাড়াও আছে অনেক বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। মিঠামইন উপজেলার গায়ের মহিলাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রি এখানকার ঐতিহ্য বহন করছে চলছে। এ ছাড়াও এ অঞ্চলে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলাধুলা, যেমন, নৌকা বাইচ, লাঠি খেলা ইত্যাদি। নৌকা বাইচ হবে এমন একটা সময়ে গেলে হয়তো এই বাংলার ভিন্ন এক ঐতিহ্যের সাথে পরিচয় হবে আপনার। মিঠামইন বাজারের কাঠমহাল এখানকার ঐতিহ্যের আরেক নিদর্শন।

কিশোরগঞ্জ জেলার আরো কিছু দর্শনীয় স্থান :

মিঠামইন ছাড়াও কিশোরগঞ্জ জেলায় রয়েছে-

নিকলী হাওর

ইটনা হাওর

শহরের নরসুন্দা লেক

বাংলার প্রথম মহিলা কবি চন্দ্রাবতীর মন্দির

মানব বাবুর জমিদার বাড়ি

এরকম আরও অনেক দর্শনীয় স্থান।

মিঠামইন হাওরে যাবার উপায় :

আপনি যদি শুধু মিঠামইন হাওরের কথা চিন্তা করে আসেন তাহলে প্রথমে আপনাকে কিশোরগঞ্জ জেলা সদরে আসতে হবে। ঢাকা থেকে বাসে অথবা ট্রেনে করে কিশোরগঞ্জ আসতে পারবেন। ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ৭.১৫ মিনিটে এগারসিন্দুর প্রভাতি (বুধবার বন্ধ) ছাড়ে কিশোরগন্জের উদ্দ্যেশ্যে। ৩-৪ঘন্টার এই ট্রেন ভ্রমণ করতে খরচ হবে শ্রেণী ভেদে ১৩০-২৮০টাকা।

* আরো পড়ুন:

বাসে আসতে চাইলে মহাখালি বাস স্ট্যান্ড থেকে অনন্যা পরিবহণ ও অনন্যা সুপার বাসে এবং সায়েদাবাদ থেকে আসতে চাইলে অনন্যা সুপার ও যাতায়াত বাসে করে সরাসরি কিশোরগঞ্জ সদরে আসা যায়। বাস ভাড়া ২০০ টাকা থেকে ২২০ টাকা। কিশোরগঞ্জ রেলস্টেশন বা বাস স্টেশন থেকে থেকে রিক্সা/ইজিবাইক দিয়ে একরামপুর বাস/সিএনজি স্ট্যান্ড, তারপর লোকাল সিএনজি/অটো অথবা রিজার্ভ গাড়ি নিয়ে চামড়া/চামটা ঘাট। সেখান থেকে ঘন্টা অথবা সারাদিনের জন্যে ছোট ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করে মিঠামইন হাওরের চারপাশ ঘুরে দেখা যাবে। চামটা ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকা মিঠামইন যেতে প্রায় এক ঘন্টা ৩০মিনিটের মত লাগে। ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া ঘন্টাপ্রতি ২০০-৩০০টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। দরদামের উপর নির্ভর করবে।

থাকার ব্যবস্থা :

মিঠামইন উপজেলায় থাকার খুব ভালো ব্যবস্থা নেই। যদি থাকতে চান তাহলে উপজেলা পরিষদের ডাক বাংলোতে থাকতে পারবেন। এছাড়া মিঠামইন বাজার এলাকায় শিকদার হোটেল ও সোহেল গেস্ট হাউজ থাকার ব্যবস্থা আছে। ভালো কোথাও থাকতে চাইলে কিশোরগঞ্জ সদরে রিভার ভিউ, গাংচিল, নিরালা, উজানভাটি, ক্যাসেল সালাম নামে বেশ কিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছ। এছাড়া অনুমতি সাপেক্ষে জেলা সদরের সরকারি ডাক-বাংলোতে থাকতে পারবেন।

কি খাবেন :

বাজারের স্থানীয় খাবার হোটেলে চেখে দেখতে পারেন হাওরের বিভিন্ন স্বাদের মাছ। মিঠামইনের খাবার হোটেলগুলোতে সাধারণত হাওরের তাজা মাছ রান্না করে।

ভ্রমণে আমাদের করনীয় :

পিছনে বেল্ট আছে এবং পানিতে ভিজলে নষ্ট হবে না এমন সেন্ডেল / কেডস সাথে নিতে হবে।

সু/ হাই হিল নিবেন না।

এডভেঞ্চার ট্যুরে লাগেজের সাইজ ছোট হওয়াই ভালো।

কোন কিছু অপচয় না করা

পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। যেমন: পলিথিন বা প্যাকেজিং বস্তু যত্রতত্র ফেলা যাবে না।

স্থানীয় এবং অন্য ভ্রমণকারী দলের সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

গাইড এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের নির্দেশনা মেনে চলা।

পরিশেষে-

ইট পাথরের নগরী থেকে চিরসবুজে গেলে, যেকোনো মানুষের মন ভালো হয়ে যায়।

ঘোরাঘুরি করা ভালো, তবে সদাসর্বদা সতর্ক ও থাকা জরুরি । একটা দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না।সুতারং, সতর্ক হোন।

ট্রাভেল করলে আপনার সাহস এবং অভিজ্ঞতা দুটোই বাড়বে।যা আপনার ব্যাক্তি জীবনে বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ

ভূমিকা পালন করে এমন ট্যুর গুলো থেকে।

বিঃদ্রঃ

ভ্রমণস্পটে প্লাস্টিক -পলিথিন তথা অপচনশীল দ্রব্য ফেলানো থেকে বিরত থাকুন।

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে , ভালো লাগা. খারাপ লাগা সবকিছু কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।মিঠামইন হাওর, মিঠামইন হাওর, মিঠামইন হাওর, মিঠামইন হাওর, মিঠামইন হাওর.

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *