শেষের অশ্রু : দাঊদ ইবনু সুলাইমান উবাইদি

বুক রিভিউ

জীবনে চলার পথে বারংবার পাপ-কাজে জড়িয়ে হোঁচট খাই আমরা। কখনও হতাশায় থমকে দাঁড়াই, কখনও-বা আশা বুকে বেঁধে আল্লাহর পথে ফিরে আসার চেষ্টা করি। আমাদের উত্থান-পতনের ধারা চলতে থাকে।

বই পরিচিতি:

বইয়ের নাম : শেষের অশ্রু

লেখক : দাঊদ ইবনু সুলাইমান উবাইদি

অনুবাদক, আব্দুল্লাহ মজুমদার

প্রকাশনী : সমর্পণ প্রকাশন

প্রচ্ছদ : মুহাম্মাদ শরীফুল আলম

পৃষ্টা সংখ্যা : ১০৪

মূল্য : ১৩৪৳

লেখক পরিচিতি:

দাঊদ ইবনু সুলাইমান উবাইদি।

পহেলা জুলাই ১৯৩১ সালে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। প্রথম জীবনে তিনি বেশ কয়েক বছর কারাগারে কাটান। পরবর্তীকালে অনার্স শেষ করেন বাণিজ্য বিভাগ থেকে।

এরপর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর যোগাযোগ বিভাগে চাকুরি করা শুরু করেন। অবসরের আগ পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে রত ছিলেন। ১৯৯০ সালের ২৩ মার্চ জুমুআর দিন তিনি মারা যান। আবূ গারীব অঞ্চলে তাকে দাফন করা হয়।

বই সম্পর্কে কিছু কথা:

জীবনে চলার পথে বারংবার পাপ-কাজে জড়িয়ে হোঁচট খাই আমরা। কখনও হতাশায় থমকে দাঁড়াই, কখনও-বা আশা বুকে বেঁধে আল্লাহর পথে ফিরে আসার চেষ্টা করি। আমাদের উত্থান-পতনের ধারা চলতে থাকে।

আরেকটি দিক হলোঃ নিজেকে যতই দ্বীনদার বলে দাবি করি না কেন, আমরা কেউই ফিতনার ঊর্ধ্বে নই। একটু অসতর্কতা, চোরা-দৃষ্টি, সামান্য কথা কিংবা ভূল জায়গায় ভুল সময়ে থাকার ফলে নিজেদের এমন অবস্থায় আবিষ্কার করা খুবই সম্ভব, যেটা হয়তো শুরুতে আমরা কেউ কল্পনাও করতে পারতাম না। তাই উচিত যথাসম্ভব এ ধরনের ফিতনা থেকে গা-বাঁচিয়ে চলা।

* আরো একটা বইয়ের রিভিউ পড়ুন-

পথা হারিয়ে ফেললেও কিভাবে ফিরে আসতে হয়, সুপথ বেছে নিতে হয় তার প্রেরণা জোগাবে এ বই।

সংক্ষিপ্ত আলোচনা:

শয়তান মানুষকে প্রতিনিয়ত প্ররোচনা দেয়। ওর প্ররোচনা থেকে বাদ যায় না কেউই। কী ধার্মিক, কী অধার্মিক—সবার পেছনেই লেগে থাকে সে। যে মানুষটা ভালো, তাকে কীভাবে খারাপের দিকে নিয়ে আসা যায়, ও সেই প্রচেষ্টায় রত থাকে। আবার যে খারাপ, তাকে কীভাবে আরও খারাপ বানানো যায়, সেটার জন্যে কৌশল করে দলবল নিয়ে।

পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকেন, যাদের ঈমান ও আমল দেখে সবাই অনুপ্রণিত হন,তার মতো হবার স্বপ্ন দেখেন।কিন্তু এমন তাকওয়াবান লোকেরও পদশৃঙ্খলন ঘটতে পারে। শয়তান তাকে টেনে এমন নিচে নামাতে পারে, যেটা লোকে কেন সে নিজেও কল্পনা করতে পারে না….!

কিছু মানুষ শুধু নিজে আলোকিত হন না, অপরকেও আলোকিত করেন। যার ঈমান ও আমল দেখে সবাই অনুপ্রাণিত হন, তার মতো হবার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু এমন তাকওয়াবান লোকেরও পদস্খল ঘটতে পারে। শয়তান তাকে টেনে এমন নিচে নামাতে পারে যেটা সবাই তো বটেই, সে নিজেও কল্পনা করতে পারেনি। তারপর? তারপর কি হয়? এরপর জীবনের গল্পের পরিসমাপ্তি ঘটে অশ্রুতে।

তার সফেদ অন্তরে ফেলে দেয় গুনাহের দাগ।

‘শেষের অশ্রু’- তেমন এক ইবাদতপ্রেমী যুবক ইয়াসারকে নিয়ে সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা একটি গল্প। যে ইয়াসারের চোখে আখিরাত ছাড়া কিছুই ছিল না, সবসময় নামাজ, রোজা, কুরআন, তাসবিহ পাঠ করা, এক কথায় আল্লাহরর প্রেমে মশগুল থাকতো সবসময়।

সেই ইয়াসারকে গ্রাস করেছিল ডাগর কালো দুটি চোখ। মসজিদে অন্তর লেপ্টে থাকা যুবকটির অন্তর লেপ্টে গিয়েছিল এক রুটির দোকানের শেষের বাড়িটায়।

সারশীর নামক রূপসীর সৌন্দর্যের মাধ্যমে শয়তান বশ করে ফেলেছিল ওকে। শয়তানের আঁটা প্রেমের ফাঁদে আটকে গিয়েছিল দুনিয়াবিমুখ ইয়াসারের মন। এক সময়কার ইবাদাতগুজার ইয়াসার হারিয়ে যাচ্ছিল অন্ধকার পথে।

শেষের অশ্রু শুধু বাগদাদের ইয়াসারের গল্প নয়। বরং, সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য হোঁচট খাওয়া যুবকের গল্প। গল্পগুলো তো আমাদের-ই।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:

আমার জীবনের ইসলামী বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পড়া হয়েছে যে বইগুলো তার মধ্যে ‘শেষের অশ্রু’ অন্যতম।

.

‘শেষের অশ্রু’ খুবই ইমোশনাল একটি বই ।

কাহিনীর শুরু থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটা কথা ফিতনায় পতিত হওয়া প্রতিটা যুবক উপলব্ধি করতে বাধ্য হবে। এমনকি অতি ধার্মিক ছেলের জীবনেও এমন পরিণতি আসতে পারে।

জীবনর আঙিনায় পতন-ই শেষ না। বিশাল অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকলেও ফিরে আসার একটা পথ আছে, তা হলো তাওবাহ করা। বইটা পড়ার শুরুতেই ভেবে রেখেছিলাম যে, মাত্র কয়েক পৃষ্টা পড়ে রেখে দিবো।

কিন্তু, বইটা শুরু থেকেই এত ভালো লাগতে শুরু করলো যে, কয়েকটা পৃষ্টা যেন শেষ-ই হয় না। বইটা পড়ে ভালো লেগেছে এটা বললে ভূল হবে, বইটা পড়ে আমি মুগ্ধ। সত্যি অসাধারন একটা বই।

বইতে থাকা ইয়াসারের গল্প যখন পড়ছিলাম, তখন মনে হচ্ছিলো এটা বুঝি আমার-ই গল্প, আমাদের গল্প, বর্তমান সমাজের গল্প,একজন মানুষের ভূল পথ থেকে ফিরে আসার জন্য তাওবার গল্প।

* আরো একটা বইয়ের রিভিউ পড়ুন-

নারী ঘটিত ফিতনা ও খারাপ সহচর্যে থেকে অন্তরে মরীচিকা ও অসৎ ষড়যন্ত্র এবং তার থেকে ফিরে আসা

এক তরুণের অনবদ্য গল্প। যা বর্তমান সময়ের তরুণদের পথ দেখাতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

যার প্রতিটি বাক্য অন্তরে কম্পন সৃষ্টি করে।

.

ফ্রি মিক্সিং এ পড়াশোনার সুবাদে আমরা বিভিন্ন ধরনের ফেতনায় পড়ে যেতে পারি তার মধ্যে নারীর ফেতনা অন্যতম। অনলাইন আমাদের এই ফেতনা এখন আরো অনেক সহজ করে দিয়েছে, তাই বইটা পড়লে এই ফেতনা সম্পর্কে বুঝতে পারবেন, এমনকি অতি ধার্মিক ছেলের জীবনেও কেমন পরিণতি আসতে পারে তা জানতে পারবেন।

.

আমার মনে হয় আমরা ভূল পথে চলে গেলেও ফিরে আসার জন্য, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য, তাওবা

করার জন্য এ বইটা আমাদের কে অনূপ্রেরণা জোগাবে।

বইটা কেন পড়া উচিত:

আমরা যারা অতীতে প্রচুর পাপকাজ করেছি এবং তা নিয়ে অনুতপ্ত ও চিন্তিত এবং এখনো যারা

পাপকাজে লিপ্ত এবং তা নিয়ে চিন্তিত নই অর্থ্যাৎ থোরাই কেয়ার করি ভাব উভয়ের জন্যই অবশ্যপাঠ্য বই হচ্ছে ‘শেষের অশ্রু’

.

আমরা যারা সুযোগ পেলেই আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত হই বইটি তাদের জন্য একটা রিমেইন্ডার৷ তাদেরকে বারবার

একটি কথাই স্মরণ করিয়ে দিবে যে, আল্লাহর রহমতের দরজা এখনো খোলা; ফিরে এসো সেই রবের নিকট

যিনি মানুষ ও জিন জাতিকে তাঁর ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন৷

শিক্ষা:

বইটির গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে বই থেকে পাওয়া শাইখের উপদেশ শিরোনাম থেকে একটি কথা তুলে ধরছি __

“আমি তোমাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি : শয়তান তোমার কাছে বিভিন্ন দরজা দিয়ে ঢুকবে। তবে প্রধানত নারীর মাধ্যমে ঢুকবে।

তুমি তার থেকে দায়েমি যিকির—দৃষ্টি সংযত করা ও কুরআন তিলাওয়াত করার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।

নিজেকে মনে করিয়ে দাও,এই সুন্দরী মেয়ের চেহারা কিছুদিন পর একটা মৃতদেহে পরিনত হবে;যে দেহ কীটপতঙ্গ খেয়ে ফেলবে।

আর জান্নাতে এমন হুর আছে, যাদের উদীয়মান সূর্য দেখলেও লজ্জা পায়”

বিশেষ কিছু লাইন/উপদেশ-

শাইখ জাওয়াদ বলেন,”একজন পুরুষ দুনিয়ার সব নারী থেকে বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু একজন নারী থাকে, যে তার

অন্তরের মাঝে অতি গোপনে জায়গা করে নিতে পারে। “

“শেষের অশ্রু ” শুধু বাগদাদের ইয়াসারের গল্প নয়।বরং,সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অসংখ্য হোঁচট খাওয়া

যুবক -যুবতীর গল্প। গল্প গুলো তো আমাদের -ই…..

এই টপিকের উপর আরো আর্টিকেল পড়তে ভিজিট করুন-

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।

শেষের অশ্রু : দাঊদ ইবনু সুলাইমান উবাইদি. শেষের অশ্রু : দাঊদ ইবনু সুলাইমান উবাইদি,

বই পড়ুন, বইয়ের আলোয় নিজেকে আলোকিত করুন। বেশি বেশি বই পড়লে জ্ঞান বাড়ে। সুতরাং, নিজে বই পড়ার পাশাপাশি অন্যদের কে উৎসাহিত করুন।

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *