সুন্দরবন ভ্রমণ 2024

ভ্রমণ

বেঁচে থাকুক আমাদের সুন্দরবন অনন্তকাল

আমাকে ঘিরে আছে যে সুন্দর বন

সে বন ছড়ায় মুগ্ধতা ; আর আমি

সেই ‘সুন্দরবন’এর কোলে প্রেম উড়াই

ঝিরিঝিরি বাতাসে কুড়াই স্নিগ্ধতা

সুন্দরবন ! নাম শুনেননি এমন কোনো বাংলাদেশী মানুষ হয়তো পাওয়া যাবে না। বাংলাদেশের সব পর্যটন এলাকা হতে সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সবচেয়ে রিল্যাক্স এবং সুন্দর ভ্রমন হলো সুন্দরবন ভ্রমন। যারা হয়তো এখনো সুন্দরবন যাননি তারা যাওয়ার পর অনুভব করবেন আগে কেন আসিনি।

সুন্দরবন এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি যা বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীত্রয়ের অববাহিকার বদ্বীপ এলাকায় অবস্থিত এই অপরূপ বনভূমি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালি ও বরগুনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন বিশ্বের সর্ববৃহৎ অখণ্ড বনভূমি। ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে।

১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে সুন্দরবন স্বীকৃতি লাভ করে। এর বাংলাদেশ ও ভারতীয় অংশ বস্তুত একই নিরবচ্ছিন্ন ভূমিখণ্ডের সন্নিহিত অংশ হলেও ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে সূচিবদ্ধ হয়েছে; যথাক্রমে “সুন্দরবন” ও “সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান” নামে। সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। মোট বনভূমির ৩১.১ শতাংশ, অর্থাৎ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা, খাঁড়ি, বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। বনভূমিটি, স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। জরিপ মোতাবেক ১০৬টি বাঘ ও ১,০০,০০০ চিত্রা হরিণ রয়েছে এখন সুন্দরবন এলাকায় আছে (২০১৬ সাল)।

চলুন এবার সুন্দরবন ভ্রমনের বিষয়ে গল্প করি:

সুন্দরবন ট্রিপ কে অনেকে বলে থাকেন খাওয়া-দাওয়ার ভ্রমণ। কারণ এই সুন্দরবন ভ্রমণ এ খাবার এত এত অ্যারেঞ্জমেন্ট থাকে যে সবাই খেয়ে শুধু তৃপ্তির ঢেকুর তুলে। তাছাড়া শিপ এ ভ্রমণ যেন এক ভাসমান বাড়ি। নিজের বিছানায় শুয়ে চলন্ত শিপ থেকে গহীন বন দেখা যেন এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা । কখনো চোখে পরে যেতে পারে কুমির/হরিণ আরো অন্যান্য বন্য প্রাণী। আর রাতের আড্ডাটা তো সারাজীবনের স্মৃতি। নিশ্চুপ বন এর পাশ দিয়ে আপনি যাচ্ছেন আর রাত ভর আড্ডা দিচ্ছেন আপনার বন্ধু বান্ধব ও প্রিয়জনদের সাথে ভাবুন একবার কেমন লাগবে । আরেকটা সুন্দর অভিজ্ঞতা আপনার হবে সেটা হলো ট্রলার এ করে সুন্দরবন এর ক্যানেল ধরে গহীনে চলে যাওয়া । যেখানে নেই কোনো অন্য কিছুর শব্দ আছে শুধু নিস্তব্ধতা আর পাখপাখালির ডাক ।

সুন্দরবন কোথায় অবস্থিত:

আগেই বলেছি সুন্দরবন নিয়ে। তবে ছোট্র পরিসরে বলতে গেলে- বাংলাদেশের সাতক্ষীরা – খুলনা – বাগেরহাট জেলার ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার এরিয়া জুড়ে বঙ্গপোসাগরের কোল ঘেষে সুন্দরবন অবস্থিত। পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন আমাদের সুন্দরবন।

কি ভাবে ভ্রমন করবেন:

সুন্দরবন ভ্রমনের জন্য এখন অনেক ভালো মানের ট্যুরিষ্ট শিপ আছে। সব ট্যুরিষ্ট শিপেই কম বেশি আধুনিক ফ্যাসেলিটিজ আছে। এখন বিলাশ বহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও নন এসি প্রিমিয়াম জাহাজে ট্যুরিষ্টদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা রাখার চেষ্টা করছে। আপনার বাজেট অনুযায়ী আপনি আপনার মতো করে জাহাজ চুজ করতে পারবেন। অপশন থা সুন্দরবন ভ্রমন এখন আপনার হাতের নাগালেই।

কখন ভ্রমনের উপযোগী সময়:

অক্টোবর থেকে মে মাস পর্যন্ত হলো সুন্দরবনের মূল সিজন। তবে বছরের যে কোন সময়ই আপনি সুন্দরবন ভ্রমন করতে পারবেন। জুন, জুলাই ও আগষ্ট এই তিন মাস সুন্দরবন ভ্রমন করতে পারবেন না। বন্যপ্রাণীর বিডিং এই সময়টাতে বন বিভাগ থেকে তিন মাসের যে কোন ভ্রমন, মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ।

খরচ:

সুন্দরবন ভ্রমনের খরচ নির্ভর করে জাহাজের মান, ফ্যাসেলিটি ও তাদের সার্ভিস এর উপরে। আপনি ৭,৫০০ টাকা থেকে ২১০০০ টাকার ভিতরে থাকা খাওয়া সহ তিন দিন ভ্রমন করতে পারবেন। এখন অনেক বিলাশবহুল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জাহাজ ও নন এসি প্রিমিয়াম জাহাজ রয়েছে। মূলত: শিপের মান, ফ্যাসেলিটিস, সার্ভিসের উপরেই ট্যুরের প্রাইজ নির্ধারিত হয়ে থাকে।

সুন্দরবনের ভ্রমণ স্পটগুলো:

হাড়বাড়িয়া

জামতলা সী-বীচ

কটকা অফিস পাড়

টাইগার পয়েন্ট

টাইগার টিলা

করমজল

হিরন পয়েন্ট / ডিমের চর

দুবলা চর / কচিখালী

আন্দার মানিক

কটকা ক্যানেল

হিরন পয়েন্ট ক্যানেল

সুন্দরী ক্যানেল ক্রুজিং

কি ভাবে আসবেন:

বাংলাদেশের যে কোন প্রান্ত থেকে বাসে করে খুলনা আসার সব রুট আছে। কিছু কিছু জেলা থেকে সরাসরি ট্রেন

যোগাযোগও আছে। খুলনা হতে আপনি খুব সহজেই সুন্দরবন ভ্রমন করতে পারবেন।

* আরো পড়ুন-

নিরাপত্তা:

আসলে অনেকের বিরূপ একটা ধারনা আছে সুন্দরবন ভ্রমনের নিরাপত্তা নিয়ে। ব্যাপারটা যদিও অনেক স্বাভাবিক। আমাদের

এক কথা সুন্দরবন ট্যুরিষ্টদের জন্য ১০০% নিরাপদ যায়গা। প্রতিটি শিপেই নিরাপত্তার জন্য ফরেষ্ট

ডিপার্টমেন্ট থেকে ২ জন আর্মস গার্ড দিয়ে দেয়। এবং জাহাজের গাইড ও ক্রু’রা সব সময় টুরিস্টদের নিরাপত্তার

বিষয় টা খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

সুন্দরবন ভ্রমণে আমাদের করনীয় :

উজ্জল রঙ্গের কাপড় ( যা অনেক দূর থেকে চোখে পড়ে ) পরিহার করা। হালকা রঙের এবং ঢিলে ঢালা ফুল স্লিব পোশাক পরা।

কোন প্রকার সুগন্ধি ব্যবহার না করা।

পিছনে বেল্ট আছে এবং পানিতে ভিজলে নষ্ট হবে না এমন সেন্ডেল / কেডস সাথে নিতে হবে।

সু/ হাই হিল নিবেন না।

এডভেঞ্চার ট্যুরে লাগেজের সাইজ ছোট হওয়াই ভালো।

জঙ্গলে নামার পর কোন অবস্থাতে উচ্চ স্বরে কথা বলা যাবে না এবং খুব প্রয়োজন না হলে কথা না বলেই

ট্রাকিং করতে হবে।

যেহেতু সমস্ত প্রয়োজনীয় সব কিছু আমাদের খুলনা থেকে নিয়ে উঠতে হবে তাই পানি অপচয় না করা (নদীর পানি নোনা)

এবং খাবার পানি অন্য কোন কাজে ব্যবহার না করা।

জঙ্গলে নামার পর সু-শৃক্ষল ভাবে হাটতে হবে এবং কোন অবস্থাতে দল ছুট হওয়া যাবে না।

গাছের ডাল, পাতা বা লতায় হাত দেওয়া বা ছেড়া যাবে না।

পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করা যাবে না। যেমন: পলিথিন বা প্যাকেজিং বস্তু যত্রতত্র ফেলা যাবে না।

স্থানীয় এবং অন্য ভ্রমণকারী দলের সদস্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

গাইড এবং নিরাপত্তা রক্ষীদের নির্দেশনা মেনে চলা।

.

পরিশেষে- ঘোরাঘুরি করা ভালো, তবে সদাসর্বদা সতর্ক ও থাকা জরুরি । একটা দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না।সুতারং, সতর্ক হোন।

আর হ্যাঁ, সুন্দরবনের প্রত্যেকটা পয়েন্ট যেমন সুন্দর, তেমনি ছিলো জলের কুমির এবং স্থলে বাঘের ভয়।

ইট পাথরের নগরী থেকে চিরসবুজে গেলে, যেকোনো মানুষের মন ভালো হয়ে যায়।

ট্রাভেল করলে আপনার সাহস এবং অভিজ্ঞতা দুটোই বাড়বে।যা আপনার ব্যাক্তি জীবনে বড় বড় সিদ্ধান্ত নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এমন ট্যুর গুলো থেকে।

সুন্দরবন আমাদের অহংকার। আমরা যেন আমাদের নোংরা না করি। কোন পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, পানির

বোতল যত্রতত্র না ফেলি। পরিস্কার রাখি আমাদের সুন্দরবনকে, আমাদের অহংকারকে

.

বিঃদ্রঃ আসুন আমরা সুন্দরবন ঘুরতে গিয়ে ময়লা ও আবর্জনা নির্ধারিত জায়গায় ফেলি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখি।

.

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর আর্টিকেল পড়তে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের আর্টিকেলটি কেমন লেগেছে , ভালো লাগা. খারাপ লাগা সবকিছু কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন। আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।সুন্দরবন ভ্রমণ, সুন্দরবন ভ্রমণ, সুন্দরবন ভ্রমণ, সুন্দরবন ভ্রমণ, সুন্দরবন ভ্রমণ.

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *