হাই ব্লাড পেসার সম্পর্কে জানুন, স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হোন-

হেলথ টিপস

হাই ব্লাড প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কি? এর লক্ষণ গুলো কি কি? কেনো হয়? হলে করনীয় কি? সামগ্রিক একটা ধারনা দিতে চেষ্টা করবো।

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ আসলে কী-

সবার শরীরেই রক্তে নির্দিষ্ট একটি চাপ থাকে। সিস্টোলিক যেটা সেটা যদি ১৪০ বা তার বেশি হয়, আর ডায়াস্টোলিক বা তার নিচেরটা যদি ৯০ বা তার বেশি হয়, তাহলেও তাকে হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ বলা হয়।

রক্তস্রোত রক্তনালীর দেওয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে সেটিই রক্তচাপ। স্বাভাবিক অবস্থায় এর পরিমাপ ১২০/৮০। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে রক্তচাপ খানিক বাড়তে থাকে। তখন এই পরিমাপের থেকে আর একটু বেশি চাপকেও স্বাভাবিক বলেন ধরা হয়।

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ দু’ভাবে বাড়তে পারে-

১. অ্যাকিউট:

হঠাৎ কোনও উত্তেজনার বশে বা অন্য কোনও কারণে দুম করে রক্তের চাপ খুব বেশি বেড়ে গিয়ে বিপত্তি ঘটতে পারে। এটি অ্যাকিউট হাই ব্লাড প্রেসার। এতে আচমকা হার্ট ফেলিওর হতে পারে। স্ট্রোকও হতে পারে।

২. ক্রনিক:

ক্রনিক হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষেত্রে চাপের পরিমাপ হয়তো হঠাৎ করে খুব বেশি থাকে না। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে রক্তের উচ্চচাপ পুষে রাখার জন্য হার্টের পেশির ক্ষতি হতে পারে। কারণ, বেশি রক্ত পাম্প করতে হার্টের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তা ছাড়া অনেক দিন ধরে রক্তচাপে ভুগলে রক্তনালীগুলো শক্ত হয়ে যায়। সেগুলোর স্থিতিস্থাপকতা কমে যায়। রক্তনালীর ভেতরের দেওয়াল মোটা হয়ে যায়। ফলে ব্লক তৈরি হয়। সব মিলিয়ে হার্ট ফেলিওর বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

* আরো একটা আর্টিকেল পড়ুন-

আবার রক্তনালীতে ‘ব্লক’ তৈরি হওয়ার জন্য বা বেশি রক্তচাপের কারণে নালীর মধ্যে রক্ত দলা পাকিয়ে যেতে পারে। সেই দলা বা ক্লট মাথায় পৌঁছে স্ট্রোক হতে পারে। আবার রক্তের চাপ সহ্য করতে না পেরে কোনও ধমনি ছিঁড়ে গিয়েও স্ট্রোক হতে পারে।অতএব, রক্তচাপ পুষে রাখার মাসুল হতে পারে মারাত্মক।

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কী কী জটিলতা হতে পারে-

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু সমস্যা হয়। যেমন:

১। ব্রেন স্ট্রোক,

২। হার্ট অ্যাটাক,

৩। চোখে সমস্যা,

৪। কিডনির সমস্যা।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে মূলত চারটি অঙ্গেরই ক্ষতি হতে পারে।

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ কেন বাড়ে-

চলুন জেনে আসি হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপ কেন বাড়ে:

১) বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে। বয়সের সঙ্গে রক্তচাপ সমানুপাতিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংখ্যা জানাচ্ছে, ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে প্রতি তিন জনের মধ্যে এক জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। বয়স ২০ থেকে ৩০-এর মধ্যে হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনের মধ্যে ১ জন। আর পঞ্চাশের কোঠায় বয়স হলে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হন প্রতি ১০ জনে ৫ জন। বয়স ৭০ বা তার বেশি হলে প্রতি দুই জনের মধ্যে এক জনের উচ্চ রক্তচাপ থাকবে।

২) খাবারে বেশি নুন খাওয়ার জন্য প্রেসার বাড়তে পারে।

৩) ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রেসার বাড়ে।

৪) শারীরিক পরিশ্রম না করে বসে বসে থাকলে ওজন বাড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে রক্তচাপ।

৫) মানসিক চাপ বা উত্তেজনা বাড়লে অ্যাড্রেনালিন গ্রন্থি থেকে নরঅ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়।

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে কি ধরনের খাবার খেতে হবে-

হাই ব্লাড প্রেসার বা রক্তচাপের সমস্যায় ভুগলে প্রথমত ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ওজন বাড়লে হার্ট বেশি পাম্প করবে। ফলে রক্তচাপ বাড়বে। তাই উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সুতরাং খাবার খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এমনিতে উচ্চ রক্তচাপের জন্য দরকার ড্যাশ ডায়েট অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ খাবার। রোজকার খাবারে থাকবে রকমারি ফল ও প্রচুর শাকসব্জি। কারন এ সবের মধ্যে থাকে পটাশিয়াম ও প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগলে অ্যানিমাল প্রোটিন কম খেতে হবে।

* আরো একটা আর্টিকেল পড়ুন-

রক্তচাপ বেশি হলে নুনের কথা মাথায় রাখতে হবে। নুনের সোডিয়াম ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। দিনে ২-৩ (ছোট চামচের হাফ চামচ) গ্রামের বেশি নুন খাওয়া উচিত নয়। বাদ দিতে হবে প্রসেসড ফুড, জাঙ্ক ফুড, টিন ফুড, প্যাকেট ফুড, রেডি টু ইট ফুড, আচার, চিপস ইত্যাদি। কারণ এগুলোতে প্রিজারভেটিভ হিসেবে নুন মেশানো থাকে।

আবার যদি হঠাৎ করে ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ কমে যায়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের করনীয়-

উচ্চরক্তচাপের বিষয়ে আমরা অনেকেই জানি। তবে নিম্ন রক্তচাপ বা লো প্রেসারের বিষয়ে অনেক তথ্য জানা নেই। আর তাই নিম্ন রক্তচাপ সমস্যা হলেও অনেকে বুঝতে পারেন না কি রোগে ভুগছেন।

হঠাৎ প্রেসার কমে গেলে ভয়ের কোনো কারণ নেই, আতঙ্কিত হবেন না। আগে প্রেসার মেপে দেখুন। অনেক সময় প্রেসার বাড়ার ও কমার লক্ষণগুলো একই রকম হয়ে থাকে। যদি ব্লাডপ্রেসার ৯০ বা ৯০-এর নিচে হয়, তবে নিম্নরক্তচাপ আছে বলে ধরা হয়।

হঠাৎ প্রেসার কমে যেতেই পারে৷ অতিরিক্ত পরিশ্রম, দুশ্চিন্তা, ভয় ও স্নায়ুর দুর্বলতা থেকে লো ব্লাড প্রেসার হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসার লো হলে মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব, বুক ধড়ফড়, অবসাদ, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে অসুবিধা দেখা দেয়। ফলে প্রেসার লো হলে বাড়িতেই প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ করা জরুরি৷

স্ট্রং কফি, হট চকোলেট এবং যে কোনো ক্যাফেইন সমৃদ্ধ পানীয় দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে হঠাৎ করে লো প্রেসার দেখা দিলে এক কাপ কফি খেয়ে নিতে পারেন। তবে সব সময় লো প্রেসার হলে কোলা না খাওয়াই ভালো।

নুনে আছে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়ায়। তবে পানিতে বেশি নুন না দেওয়াই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয়, এক গ্লাস পানিতে দুই চা-চামচ চিনি ও এক-দুই চা-চামচ নুন মিশিয়ে খেলে। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের চিনি বর্জন করতে হবে।

হাইপার টেনশনের ওষুধ হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত হয়ে আসছে কিশমিশ। এক-দুই কাপ কিশমিশ সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন।

সকালে খালি পেটে কিশমিশ ভেজানো পানি খেয়ে নিন। তাছাড়া ৫টি কাঠবাদাম ও ১৫ থেকে ২০টি চিনাবাদাম খেতে পারেন।

ভিটামিন ‘সি’, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও প্যান্টোথেনিক উপাদান যা দ্রুত ব্লাড প্রেসার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মানসিক অবসাদও দূর করে। পুদিনাপাতা বেটে এতে মধু মিশিয়ে পান করলে কাজে দেবে৷

আদিকাল থেকেই যষ্টিমধু বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এক কাপ জলে এক টেবিল চামচ যষ্টিমধু দিয়ে পান করুন। এছাড়া দুধে মধু দিয়ে খেলেও উপকার পাবেন।

বিটের রস হাই ও লো প্রেসার- উভয়টির জন্য সমান উপকারী। এটি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। এভাবে এক সপ্তাহ খেলে উপকার পাবেন।

সুস্হ থাকতে হলে নিয়ন্ত্রীত প্রেসারের বিকল্প নাই।অতএব সচেতন হোন,সুস্হ থাকুন।

পরবর্তীতে আরো সুন্দর সুন্দর হেলথ টিপস পেতে আমাদের সাইট ভিজিট করুন।

আমাদের আজকের হেলথ টিপস কেমন লেগেছে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের কে জানাতে পারেন।

আপনাদের ভালো লাগায় আমরা উতসাহিত হই।

স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

আপনাদের যদি ভালো লাগে তাহলে আর্টিকেলটি আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য- ধন্যবাদ.

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *